ধ্বংসের মুখে সাড়ে সাতশো বছরের পুরনো নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ি

ঐতিহাসিক স্থাপত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তর জনপদের প্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক বর্ণাঢ্য অধ্যায় বহন করে চলেছে নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ি। প্রায় সাড়ে সাতশো বছরের পুরোনো এই জমিদার বাড়ির সাথে জড়িয়ে রয়েছে বাংলা নাটক, সংগীত, জনহিতকর কাজ এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নানা গৌরবময় স্মৃতি। তবে কালের বিবর্তনে ও চরম অবহেলার কারণে এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও এর ঐতিহ্য আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ির পরিধি শুধু স্থানীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং পশ্চিমবঙ্গ, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও বগুড়ার শেরপুর পর্যন্ত এর জমিদারি বিস্তৃত ছিল। অন্যান্য জমিদার পরিবারের তুলনায় এই পরিবারটি ছিল ব্যতিক্রমী ও সংস্কৃতিমনস্ক। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র অভিনেতা তুলসী লাহিড়ী (প্রকৃত নাম হেমেন্দ্র চন্দ্র লাহিরী) এই বংশেরই সন্তান। তিনি মরিস ইউনিভার্সিটি থেকে সংগীতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রায় ৬০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং ‘ছেঁড়া তার’, ‘দুঃখের ইমান’-এর মতো যুগান্তকারী নাটক রচনা করেন। এছাড়া এই পরিবারের সদস্যরা ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বেতারে সেতার ও বিভিন্ন যন্ত্রসংগীত পরিবেশনসহ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সাথেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন।

জনকল্যাণের অনন্য নিদর্শন হিসেবে সেকালের তীব্র পানির সংকট মোচনে জমিদাররা পাঁচ একরের অধিক জায়গায় একটি বিশাল পুকুর খনন করেছিলেন, যা আজও এলাকার মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাচ্ছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে এই পরিবারের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এত সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণকারী এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটি বর্তমানে উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ইতিহাসপ্রেমীরা দ্রুত এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।