পাকুড়িয়া বিলে কোটি টাকার মাছ চাষ

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তর জনপদের মৎস্য খাতে সাফল্যের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে গাইবান্ধার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক জলাশয় পাকুড়িয়া বিল। প্রায় ১২০ একর আয়তনের এই সুবিশাল বিলে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও সমবায় সমিতির উদ্যোগে কোটি টাকার মাছ চাষ করে এলাকার অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটানো হয়েছে। সরকারি রাজস্ব পরিশোধ এবং নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই বিল আজ শত শত মানুষের কর্মসংস্থান ও লাভের আশার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও মন্ত্রণালয়ের টেন্ডারের মাধ্যমে লিজ নেওয়া এই বিলে রুই, কাতল, সিলভার কার্প, বিগহেড ও ঘাস কার্পের মতো বড় প্রজাতির প্রায় ৯০ হাজার পোনা অবমুক্ত করা হয়। ছোট পোনা প্রাকৃতিক শিকারি মাছের পেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় এখানে ইঞ্চি-মাপে বড় এবং শক্তিশালী পোনা ছাড়াকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বিলে ফসলি জমির ধোয়া পুষ্টি ও জৈব সারের কারণে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর খাবার তৈরি হয়, যা মাছের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সরকারি রাজস্ব খাতে প্রতিবছর ১৩ লাখ টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি পাহারাদার ও অন্যান্য পরিচালন খরচ বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। তবে সব খরচ মিটিয়ে বছর শেষে সমিতির সদস্য ও স্থানীয়রা ভালো অঙ্কের লভ্যাংশ ঘরে তোলেন। এছাড়া গাইবান্ধা, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্লাপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এখান থেকে নিয়মিত মাছ সংগ্রহ করেন এবং স্থানীয়রাও সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর মাছ কেনার সুযোগ পান।

বড় এই জলাশয় ও মৎস্য প্রকল্পকে সরকারিভাবে আরও একটু পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দেওয়া গেলে এটি উত্তরবঙ্গের মৎস্য উৎপাদনে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।