পেপার ক্রাফটিং করে মাসে আয় হাজার টাকা!
ভিডিওটির সম্পূর্ণ বাংলা প্রতিলিপি (Transcript) এখানে দেওয়া হলো:
-
ভিডিওর শিরোনাম: পেপার ক্রাফটিং করে মাসে আয় হাজার টাকা! কাজী আফিসা আলিফের অবিশ্বাস্য উদ্যোগ
-
চ্যানেলের নাম: Songjog
-
ভিডিও লিংক:
https://youtu.be/-qbRpmzX2Ns
বাংলা প্রতিলিপি
[০০:০০:০০] কাগজের জিনিস এত দাম দিয়ে কিসের জন্য কিনব? তো অনেকেই জিনিসটা বুঝতো না। ভাইয়া, আপু অথবা আমার ফ্রেন্ডরা এই জিনিসগুলো বাইরের ডিস্ট্রিকে দেখেছে, তো একটু মজা করতোই সবাই। মাসিক মোটামুটি ১,০০০-২,০০০ টাকা আসে। মানে আমার জীবনের সবথেকে একটা বড় কী বলবো, আফসোসের বিষয়— আমি এত কিছু করছি, ছোট হলেও অনেক মানুষ আমাকে জানছে আমার কাজের জন্য— এই জিনিসটা আমার আব্বু দেখে যাইতে পারলো না।
[০০:০০:২২] আমার শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের আগস্ট মাস থেকে। অফিসিয়ালি এটা রান করি, কিন্তু আমার সেল শুরু হয় এর আগে থেকেই। গাইবান্ধায় একটা ছোট্ট গ্রুপ ছিল, মানে তখনকার সময় এটা বেশ বড়, বড় সড়ই ছিল। তো তখন আর কি আমি একটা এক্সপ্লেশন বক্স বানাই, সেটার একটা গ্রুপে সেল পোস্ট দেই। ঐদিনই এক-দুই ঘণ্টার মধ্যে একটা আপু মানে আগ্রহ দেখায় যে সে সেটা নিতে চায়। তার পরের দিনই মাত্র ১৫০ টাকায় সে আপুটা সেই বক্সটা নেয়।
[০০:০০:৪৯] তারপর থেকেই আমার হচ্ছে জার্নিটা শুরু হয়। আমি একটা পেইজ খুলি। মোটামুটি বলা যায় গাইবান্ধায় প্রথম আমি হচ্ছে পেপার ক্রাফটিং নিয়ে কিছু করি। রিসেন্ট সময় আমি কিছু নতুন জিনিস অ্যাড করেছি, যেমন হ্যান্ড পেইন্টের চুরি, এমব্রয়ডারি চুরি, যেগুলো এখন মোটামুটি দেখা যায় না এখনো, তবে আমি শুরু করেছি। দেখা যাক কী হয়।
[০০:০১:০৯] শুরুতে চ্যালেঞ্জ ছিল হচ্ছে যেহেতু কাগজের জিনিস, সবাই দেখা যায়, 'কাগজের জিনিস এত দাম দিয়ে কিসের জন্য কিনবো?' তো অনেকেই জিনিসটা বুঝতো না। কিন্তু অনেক ভাই-আপু অথবা আমার ফ্রেন্ডরা এই জিনিসগুলো বাইরের ডিস্ট্রিকে দেখেছে, যে তারা কাগজের জিনিসগুলো মানে সেল করতো। যেমন এক্সপ্লোশন বক্স, এটা গাইবান্ধায় অ্যাভেলেবেল ছিল না। তো তারা জিনিসটা বুঝতো, জিনিসটার মূল্য বুঝতো, সেজন্য তারা কিনতো। এমন অনেকেই থাকে যে হচ্ছে বলে যে এটার দাম কেন এত বেশি? পরে আমি বুঝানোর পর তারাও একটু বুঝতে পারতো। পরে ওই দামে জিনিসটা কিনে নিতে হয়।
[০০:০১:৩৯] আমি ক্লাস টু থেকেই বলা যায় যে, কাগজ নিয়ে কাটাকুটি করতাম। মানে বিভিন্ন জিনিস বানাতাম। তো ছোট ছিলাম তখন আইডিয়াটাও ছিল না যে আমি এটা নিয়ে কিছু করবো। আর কেউ যে এটা নিয়ে কিছু করে সেটারও তখন বুদ্ধি ছিল না। তারপর যখন আস্তে আস্তে বড় হই, ফেসবুকে দেখি অনেকে হচ্ছে এগুলো নিয়ে বিজনেস করে। তো বিজনেস— ঐ ঐ জিনিসটা দেখি।
[০০:০২:০০] তারপর হচ্ছে এই মেটেরিয়ালগুলো কোথায় পাওয়া যায়, কারণ একটা জিনিস বানাতে হলে অনেক ধরনের মেটেরিয়াল লাগে। এমনকি বিদেশ থেকেও সে জিনিসগুলো আনাতে হয়। তো তখন আমি বিভিন্ন পেইজ থেকে মেটেরিয়ালগুলো কালেক্ট করি। তারপর হচ্ছে সেগুলো দিয়ে কিছু বানিয়ে আমি পোস্ট করি। এখান থেকে মূলত আমার আইডিয়াটা আসে।
[০০:০২:১৪] মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করে যে, 'একটু চা খাওয়াস আর তুই এত কিছু মানে বিক্রি করছিস, তোর কাজগুলো মানুষ সবাই পছন্দ করছে, এই ট্রিট দিস, ঐটা দিস।' তো এরকম তো থাকেই। মানে সেরকম বাধা বা এরকম কোন কিছু কখনো আসেনি। তো যেহেতু আমার আব্বু নেই, আম্মু সবসময় বলতো আগে পড়াশোনাটা ঠিকঠাক রাখতে হবে, তারপর এগুলো।
[০০:০২:৩০] এক-দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মত আমি ইনভেস্ট করছি। যেহেতু ক্রাফটিং এর বিষয়, মাসিক মোটামুটি এক-দেড় হাজার বা দুই হাজার টাকা আসে। আমি একটিভ কাজ করি। আর যখন একদমই কাজ করি না, তখন তো আসে না।
[০০:০২:৪৫] এই জায়গাটা টোটালি আমার। আম্মু, আমি যখন ২০২১ সালে কাজটা শুরু করেছিলাম, তখন বেশ কয়েকটি অর্ডার পেয়েছিলাম। কিন্তু তারপরে একটা লম্বা সময় ধরে আমার কোন অর্ডারই আসেনি। তখন অনেক মানে একটু খারাপ লাগছিল। কিন্তু একদম যে আমি কাজটা বন্ধ করে দিব সেই চিন্তাভাবনা আমার আসেনি। আমি আমার মতো জিনিস বানাইতাম, তারপর পোস্ট করতাম।
[০০:০৩:০৫] আমার বিজনেসের মোটামুটি আমি যখন থেকে শুরু করি তখন থেকেই মানে ভালো অবস্থা ছিলই। শুরু থেকে কি আমার আব্বু আম্মু অনেক বেশি সাপোর্টিভ ছিল। কো-কারিকুলাম এক্টিভিটিগুলো শুরু থেকে আমার আব্বু নিজেই আমাকে নিয়ে যায়। কিন্তু যখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি, ক্লাস ফাইভের শেষের দিকে আমার আব্বু হচ্ছে মারা যায়। তো এটাই মানে আমার জীবনের সবথেকে একটা বড় কী বলবো, আফসোসের বিষয়।
[০০:০৩:২৬] আমি এমনকি আমার বিজনেসটা আমি শুরু করেছি আমার আব্বু মারা যাওয়ার পরেই। তো এই জিনিসটাও মাঝে মাঝে খারাপ লাগে যে যখন হচ্ছে আমি এত কিছু করছি, ছোট হলেও অনেক মানুষ আমাকে জানছে আমার কাজের জন্য— এই জিনিসটা আমার আব্বু দেখে যাইতে পারল না। আমার আব্বু থাকলে অবশ্যই অনেক খুশি হতো, অনেক সাপোর্ট করতো।
[০০:০৩:৪৩] যে যে জায়গাগুলোতে হচ্ছে বাধার সম্মুখীন হই, তখন তার হেল্প নেওয়া যায়, এই জিনিসটাই খারাপ লাগে মাঝে মাঝে যে আমার আব্বু এখন নেই। আর অনেক সমস্যার সম্মুখীন হলে তার কাছে কোন পরামর্শ নিতে পারি না কিংবা সাহায্য নিতে পারি।
[০০:০৩:৫৬] তো আমার এমন নয় যে এটা যদি কখনো বড় না হয় আমি এটা ছেড়ে দিব। যেহেতু আমার বিজনেসের নামটাই হচ্ছে 'টাইনি ওয়ার্ল্ড', তো এটা ছোটখাটো ভাবেই সবসময় থাকবে এটাই আমার আশা। ইনশাল্লাহ সামনে অবশ্যই একটু বড় হবে, আরো মানুষ জানবে।



