প্রতিদিন ৫০০ মানুষের ফ্রি ইফতার ও রাতের খাবার
খাবার বিতরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পবিত্র রমজান মাসে যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন গাইবান্ধার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র’ (GUK) প্রতিদিন ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের জন্য ফ্রি ইফতার ও রাতের খাবারের আয়োজন করে আসছে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই মানবিক উদ্যোগের বিস্তারিত চিত্র ফুটে উঠেছে।
আয়োজনের নেপথ্যে গাইবান্ধা অঞ্চলের অনেক অসহায় ও দরিদ্র মানুষের তিন বেলা পেট ভরে খাবার জোটে না। রমজান মাসে তারা যাতে অন্তত পুষ্টিকর খাবার খেয়ে রোজা পালন করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি শুরু করা হয়। বর্তমানে এটি তাদের অষ্টম বছরের আয়োজন। এই কার্যক্রমে শুধু ইফতার নয়, বরং ইফতারের পর তৃপ্তি সহকারে রাতের খাবারও পরিবেশন করা হয়।
অর্থায়নের উৎস এই বিশাল আয়োজনের অর্থ আসে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের নিজস্ব তহবিল থেকে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাদের বেতনের একাংশ বা এক-দুই দিনের স্যালারি স্বেচ্ছায় এই মহৎ কাজে দান করেন। কোনো বিশেষ দাতা সংস্থার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা এই সেবা অব্যাহত রেখেছেন।
খাবার বিতরণ ও যাচাই প্রক্রিয়া যাতে প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধা পান, সেজন্য রমজানের আগেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ করে উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করা হয়। নির্বাচিত ব্যক্তিদের একটি করে বিশেষ কার্ড দেওয়া হয়, যা দেখিয়ে তারা পুরো মাস এখানে এসে খাবার খেতে পারেন। তবে কার্ডধারী ছাড়াও অনেক ভাসমান মানুষ এখানে এসে ইফতার ও রাতের খাবারে অংশগ্রহণ করেন, যাদের কাউকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
মেনুতে বৈচিত্র্য ও মান প্রতিদিন ইফতারে জিলাপি, ছোলা-বুট, পিয়াজু, মুড়ি এবং বিভিন্ন মৌসুমি ফল থাকে। রাতের খাবারের মেনুতে থাকে মাছ, মাংস, ভাত, সবজি ও ডাল। মাসের ৩০ দিনই ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। মজার বিষয় হলো, আয়োজক এবং মেহমান—উভয়ের জন্যই একই মানের খাবার তৈরি করা হয়।
ঈদ উপহার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুধুমাত্র রমজান মাসেই তাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। শেষ রোজার দিন এই অসহায় মানুষগুলোর মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ঈদ উপহার। এই প্যাকেজে শাড়ি, লুঙ্গি, সেমাই ও চিনিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকে। আয়োজকদের ইচ্ছা, সামর্থ্য অনুযায়ী যতদিন সম্ভব তারা এই মানবিক সেবা চালিয়ে যাবেন।
সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবানরা যদি নিজ নিজ এলাকায় এমন উদ্যোগ নেন, তবে দেশের কোনো মানুষকেই আর অনাহারে থাকতে হবে না—এমনটিই মনে করেন এই আয়োজনের কারিগররা।



