পৌরভবনের চারপাশে ফুটপাত দখল নির্বিকার কর্তৃপক্ষ

ফুটপাত

পৌরভবনের চারপাশে ফুটপাত দখল নির্বিকার কর্তৃপক্ষ

রিফাতুন নবী রিফাত: শহরের স্টেশন রোড। এই রোডে পা না দিলে কোন ভাবেই গাইবান্ধা পৌর ভবনে প্রবেশের উপায় নেই। কেউ যদি কোন প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে পৌরভবনে প্রবেশ বা বের হতে চান। তাকে অবশ্যই ঝুঁকি নিয়ে পা ফেলতে হবে। কারন, সড়কে হাঁটাচলা করার মতো কোন ফুটপাত নেই। ফলে সড়কের ওপর হাটতে গিয়ে একটু এদিক ওদিক মনোযোগ সড়ে গেলে রিক্সা-অটোরিক্সা বা কোন যানবাহনের ধাক্কা খাওয়ার ঝুঁকি কম নয়।

মূলত: হাটাচলার জন্য পৌর এলাকায় সড়কের উভয় পাশে ফুটপাত রাখা হয়। গাইবান্ধা পৌরসভাতেও বেশ কিছু সড়কে ফুটপাত ছিলো, এখনো কোন কোন সড়কে ফুটপাত আছে। কিন্তু সেই হাটার সুযোগ পায়না পথচারী ও পৌরবাসী। কারন এসব ফুটপাতের বেশীরভাগই দখলে।

পৌর ভবন থেকে বেরিয়ে হাতের বামে চুড়ি পট্টি হয়ে কাচারী বাজার থেকে পুরাতন বাজার পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে প্রায় পুরো ফুটপাত জুড়ে চোখে পড়ে ব্যবসায়ীদের মালামাল।

গাইবান্ধা শহরের স্টেশন রোডের কাঁচারি বাজার এলাকার ফুটপাত পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের দখলেব্যবসায়ীরা যে যেমন ভাবে পাড়ছে তেমন ভাবেই তাদের মালামাল দিয়ে ফুটপাত দখল করে রেখেছে ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা এতে করে প্রায় সময়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা

কাঁচারিবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ সুপারের  বাসভবনের সামনে রাস্তার দু'ধারে গড়ে ওঠা ৪০-৫০ টি দোকানের মালামাল তাদের দোকানের সামনে ফুটপাতে রেখেই ব্যবসা করছেনসদর উপজেলার বল্লমঝাড় এলাকা থেকে শহরে বাজার করতে আসা রনি মিয়া বলেন, আমরা প্রায় সময়ই এই সড়ক দিয়ে হাটা চলাচল করিঅন্যন্য জায়গাতে ফুটপাত দখল মুক্ত থাকলেও এই কাঁচারি বাজার সান্দারপট্টি এলাকা সব সময়ই দখল করে মালামাল সাজিয়ে রাখেন ব্যবসায়ীরাযার ফলে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করা সম্ভব না হওয়ার সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে 

তিনি আরো বলেন, এই তো মাস খানেক আগে আমি পায়ে হেঁটে পুরাতন বাজারে দিকে যাচ্ছিলাম, কিন্তু এই সান্দারপট্টি এলাকায় আসার পরে রিকশার চাকা আমার পায়ের উপরে তুলে দিলআর যদি ফুটপাত মুক্ত থাকতো তাহলে আমরা ওখানে দিয়েই চলাচল করতে পারতাম তাহলে আর এমন দুর্ঘটনা ঘটতো না তাই অতি তারাতারি এই এলাকার ফুটপাত দখল মুক্ত করা হোক

পথচারীরা বলছেন, মালামাল ও বিভিন্ন দোকান দিয়ে বসে ফুটপাত দখল করে রাখায় তারা স্বাভাবিকভাবে হাটতে পারেন না। দাশবেকারী মোড় থেকে পুরো ষ্টেশন রোড, সার্কুলার রোড, ডিবি রোড, খন্দকার মোড় এলাকা, পুরাতন বাজারের উভয় গেট, পিকে বিশ্বাস রোড, পার্ক রোড, সাঘাটা রোড, নাকাইহাট রোড, সাদুল্লাপুর রোড, রেলগেট এলাকাসহ পৌরসভার অধিকাংশ ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পৌরভবনের চারপাশেই ফুটপাত দখল হয়ে আছে। প্রতিদিন যাতায়াত করলেও পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের নজড়ে পড়েনা।

কথা হয় মেসার্স সাইফুল স্টোরের স্বাত্ত্বাধিকারীর সঙ্গে তিনি বলেন,  আগে থেকেই আমরা দোকানের মালামাল রাস্তায় রেখেই ব্যবসা করছিতাছাড়া আমাদের দোকানগুলো ছোট ছোটসব  মালামাল ভিতরে রাখা যায় নাআর কিছু মালামাল আছে এগুলো বের করে না রাখলে ক্রেতাদের চোখে পড়বে না, তাই দোকানের বাহিরে মালামাল গুলো রাখতে হয়। প্রায় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য একই রকম।

 গাইবান্ধা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হানিফ সরদার বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পৌরসভা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।