চিকিৎসক সংকটে গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে বন্ধ সিজারিয়ান অপারেশন
হাসপাতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রসূতি মায়েদের অন্যতম ভরসার স্থান গাইবান্ধার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। তবে চিকিৎসক সংকটের কারণে গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান (সি-সেকশন) অপারেশন। বর্তমানে শুধুমাত্র নরমাল ডেলিভারি ছাড়া তেমন কোনো চিকিৎসাসেবা মিলছে না। এতে করে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ বহন করে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের দ্বারস্থ হচ্ছেন রোগীরা।
জানা যায়, ১৯৪০ সালে গাইবান্ধার খাঁ-পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি। বিনামূল্যে চিকিৎসা, নরমাল ডেলিভারি এবং সিজার অপারেশনের জন্য এটি ছিল প্রসূতি মায়েদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান।
একসময় প্রতি মাসে এখানে শতাধিক সিজার অপারেশন সম্পন্ন হতো। কিন্তু চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেসব সেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্গম অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
সেবা নিতে আসা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় এলাকার নার্গিস বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। আগে আমাদের পরিবারের সব ডেলিভারি এখানেই হয়েছে। এখন এসে শুনছি সিজার হয় না। বাধ্য হয়ে অন্য ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।”
একই অভিযোগ করেন কামারজানি এলাকার মালেকের বেগম। তিনি বলেন, “ডাক্তার না থাকায় এবং টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ এ সমস্যায় ভুগছেন।”
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী হেদায়েতুল ইসলাম বাবু বলেন, “গরিব মানুষের ভরসার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন হতাশার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লক্ষাধিক মানুষের কথা বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ জরুরি।”
এ বিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম জানান, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে চিকিৎসক, গাড়িচালক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নৈশপ্রহরীসহ প্রায় সব পদই শূন্য রয়েছে। দ্রুত নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
উল্লেখ্য, প্রসূতি সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় মাতৃসদন নামে পরিচিত এই কেন্দ্রটি এ পর্যন্ত ১১ বার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে।



