ঘরেই নার্সারি! ঘরের ভেতরেই সবুজ স্বর্গ
নার্সারি
প্রিয় দর্শক, আমরা আমাদের এই ইনডোর প্লান্ট নিয়ে কিছু কাজ চালাচ্ছি। আমাদের নার্সারিতে আপনাদের জন্য অনেক ধরনের বিদেশি ভ্যারাইটির ইনডোর গাছ নিয়ে এসেছি। আজকে আপনাদের এই ইনডোর প্লান্টগুলোর কিছু যত্ন সম্পর্কে ধারণা দেব।
এটার নাম হচ্ছে ব্ল্যাক কার্ডিনাল। এটা একটি কুল ইনডোর গাছ। আপনারা এটি বাসার বিভিন্ন কোনায় রাখতে পারবেন। এর যত্ন খুবই ক্রিটিক্যালভাবে করতে হয়। এর মিডিয়া হিসেবে আমরা ব্যবহার করছি ধানের তুষ, বালি, মাটি, কোকোপিট, ভার্মি কম্পোস্ট ও হাড়ের গুঁড়া। এখানে প্রায় ৫০ শতাংশ বালি মিক্স করতে হয় এবং কোকোপিট দিতে হয় প্রায় ২০ শতাংশের মতো। সব মিলিয়ে আমরা এই ইনডোর গাছটির মিডিয়া তৈরি করি। এর দাম পড়তে পারে মিনিমাম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা।
এটা হচ্ছে ইনডোর প্লান্ট রিং অফ ফায়ার গোল্ড। এই গাছটি দেখতে অনেক ব্রাইট এবং আপনার ঘরকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলবে। যাদের ইনডোর প্লান্ট প্রয়োজন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ইনডোর প্লান্ট, তারা আমাদের এই ফার্মারস মার্কেটে আসতে পারেন। এখানে নানা ধরনের ইনডোর প্লান্ট রয়েছে। এটার দাম পড়বে প্রায় ৫০০০ টাকা।
এটা হচ্ছে রেড এগলোনিমা। এর দাম মাত্র ৫৫০ টাকা। এই গাছটি হচ্ছে হোয়াইট কুইন, এগলোনিমা সিরিজের একটি গাছ। এর দাম মাত্র ৪৫০ টাকা। দর্শক, আমাদের কাছে এই ইনডোর প্লান্টটি পাচ্ছেন মাত্র ৭৫০ টাকায়। এই ইনডোর প্লান্টটি পাচ্ছেন মাত্র ৯০০ টাকায়।
ঘরের ভিতরে যে গাছগুলো আমরা লাগাই এবং যেগুলো আলো ছাড়াই বাঁচতে পারে, সেগুলোকে আমরা ইনডোর প্লান্ট বলি। এই গাছগুলো সাধারণত যারা শহরে বাস করেন, তাদের জন্য বেশি উপযোগী। এগুলো আমরা গ্রামে লাগাই না, শুধু আবদ্ধ ঘরের জন্যই ব্যবহার করা হয়। যাদের ছোট ঘরের ভেতরে ইনডোর বাগান করার শখ আছে, তারাই মূলত এই গাছগুলো কেনেন। আমাদের এখানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জাতের ইনডোর প্লান্ট রয়েছে।
এই গাছটি হচ্ছে প্রিন্স অফ অরেঞ্জ। এটিও একটি ইনডোর প্লান্ট। একদিন পরপর পানি দিতে হবে এবং প্রতিদিন পাতায় স্প্রে করতে হবে। মাটির দিকে খেয়াল রাখতে হবে, যেন মাটি শক্ত হয়ে না যায়। বেশি পানি দিলে গাছের গোড়া পচে যেতে পারে এবং গাছটি দ্রুত মারা যাবে।
আমাদের এখানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গাছ হচ্ছে এই ব্ল্যাক কার্ডিনাল। আপনারা যদি এই গাছটি সংগ্রহ করতে চান, তাহলে আমাদের ঠিকানায় চলে আসুন। আমাদের ঠিকানা হামিদ স্যানিটারি সংলগ্ন শাপলামিল, গাইবান্ধা। অনলাইন ও অফলাইন—দুইভাবেই বিক্রি হয়। এখানে আমরা গাছ সম্পর্কে বাগানীদের বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে থাকি।
এটা হচ্ছে আমাদের এডেনিয়াম, যাকে আমরা মরুভূমির গোলাপ বলি। এই গাছটি মূলত মরুভূমির বালিতে জন্মায়। সাদা, লাল, গোলাপি—বিভিন্ন রঙের ফুল হয় এবং ফুলগুলো গোলাপের মতো দেখতে। আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের এডেনিয়াম রয়েছে।
এখন যে এডেনিয়ামটি দেখছেন, এটি এরাবিকাম টাইপ। এর শিকড় মানুষের পায়ের মতো দেখতে হয় এবং এর ফুল গোলাপের মতো হয়। এডেনিয়ামের মিডিয়া হিসেবে আমরা প্রায় ৮০ শতাংশ বালি ব্যবহার করি, সঙ্গে পাথর, ভার্মি কম্পোস্ট, ছাইয়ের গুঁড়া এবং প্রয়োজনে কয়লা ব্যবহার করা হয়।
এডেনিয়ামে সাত থেকে আট ধরনের ফুলের রঙ হতে পারে। আমাদের কাছে সাদা, লাল, পিঙ্ক এবং হালকা গোলাপি রঙের এডেনিয়াম রয়েছে। এটি হচ্ছে এরাবিকাম বেবি, যার জাত একটু আলাদা। আমাদের কাছে আরও বিভিন্ন জাতের এডেনিয়াম আছে।
এই এডেনিয়ামটি দেখতে কিছুটা অক্টোপাসের মতো এবং এটি দিয়ে বনসাই করা যায়। এই এডেনিয়াম গাছ একশ থেকে দেড়শ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে এবং এর উচ্চতা ২০ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এডেনিয়ামের প্রায় ৮ থেকে ১০ প্রকার রয়েছে। আমাদের কাছে কিছু গ্রাফটিং গাছ আছে, কিছু বীজের গাছ আছে।
এই ছোট ফুল ধরা এডেনিয়ামগুলো আমরা বিক্রি করছি মাত্র ১০০ টাকায়। এর থেকে বড় সাইজগুলো ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করছি। এর যত্ন খুব সহজ। এটি সেমি ইনডোর কিংবা আউটডোরে রাখা যায়। আউটডোরে এই গাছ সবচেয়ে ভালো হয়। নিয়মিত পানি দিতে পারবেন, কোনো সমস্যা হবে না।
এডেনিয়াম সাধারণত বছরে ১২ মাসেই ফুল দেয়, তবে গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে বেশি ফুল দেয়। বর্ষাকালে এডেনিয়ামে সবচেয়ে বেশি ফুল দেখা যায়। যারা ছাদবাগান করেন, তারাই বেশি এই গাছগুলো কেনেন।
প্রত্যেকটি জাতের দাম আলাদা। আমাদের কাছে সবচেয়ে কম দামের গাছটি ১০০ টাকা, মাঝারি সাইজ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সবচেয়ে দামি গাছটি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।



