পেট চুক্তির হোটেল! ত্রিমোহিনীতে ভোজনরসিকদের উপচে পড়া ভিড়

"মানুষ যেন তৃপ্তি করে শান্তিতে খেতে পারে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।"- এমন অনন্য লক্ষ্য নিয়ে গাইবান্ধায় খাবার পরিবেশন করছেন এক সাধারণ হোটেল ব্যবসায়ী। যেখানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারেও মাত্র ১৮০ টাকায় মিলছে ৫-৭ পিস মাংস, পেট ভরে চিকন ভাত এবং ১০-১২ রকমের ভর্তা। গাইবান্ধার ত্রিমোহিনী এলাকার এই হোটেলটি এখন ভোজনরসিকদের কাছে এক আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা

"মানুষ যেন তৃপ্তি করে শান্তিতে খেতে পারে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।"- এমন অনন্য লক্ষ্য নিয়ে গাইবান্ধায় খাবার পরিবেশন করছেন এক সাধারণ হোটেল ব্যবসায়ী। যেখানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারেও মাত্র ১৮০ টাকায় মিলছে ৫-৭ পিস মাংস, পেট ভরে চিকন ভাত এবং ১০-১২ রকমের ভর্তা। গাইবান্ধার ত্রিমোহিনী এলাকার এই হোটেলটি এখন ভোজনরসিকদের কাছে এক আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।

চায়ের দোকান থেকে ‘পেট চুক্তি’ খাবারের হোটেল

হোটেলটির শুরুটা ছিল খুব সামান্য। এক সময় উদ্যোক্তার বাবা এখানে একটি ছোট চায়ের দোকান চালাতেন। অভাবের তাড়নায় বর্তমান এই উদ্যোক্তা নিজেও এক সময় ইটভাটায় লেবারের কাজ করেছেন। সেই কষ্টের দিনগুলো পেরিয়ে আজ তিনি সফল। বাবার সেই চায়ের দোকানে প্রথমে খিচুড়ি বিক্রি শুরু হলেও এখন তা পূর্ণাঙ্গ ভাতের হোটেলে রূপ নিয়েছে।

খাবারের মেন্যু ও বিশেষত্ব

এই হোটেলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ‘পেট চুক্তি’ খাওয়ার ব্যবস্থা। অর্থাৎ, আপনি একবার টাকা দিলে পেট ভরে ভাত খেতে পারবেন।

  • মাংস: গরু, খাসি বা মুরগির মাংসের বাটিতে অন্তত ৫ থেকে ৭ পিস মাংস নিশ্চিত করা হয়।

  • ভর্তা: প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১২ রকমের দেশি ভর্তা থাকে।

  • চাল: সাধারণ চাল নয়, বরং উন্নত মানের সুগন্ধি 'কাটারি চালের' ভাত পরিবেশন করা হয়।

  • আচার: খাওয়ার শেষে মুখরোচক ঝাল-মিষ্টি আমের বা জলপাইয়ের আচার কাস্টমারদের তৃপ্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।

পারিবারিক শ্রম ও আন্তরিকতা

এই হোটেলের রান্নাবান্না থেকে শুরু করে পরিবেশন- সবই পরিবারের সদস্যরা মিলে করেন। বাইরে থেকে কোনো কর্মী নিয়োগ না দেওয়ায় বাড়তি খরচের চাপ নেই। ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। উদ্যোক্তা জানান, প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি মাংস এবং ৫০ কেজি পর্যন্ত চালের রান্না হয় এখানে।

ক্রেতা ও জনপ্রিয়তা

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এই মহাযজ্ঞ। গাইবান্ধার পার্শ্ববর্তী শাঘাটা, ফুলছড়ি ও বোনারপাড়া থেকে আসা শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন এনজিও ও করপোরেট অফিসের কর্মকর্তারাও এখানে নিয়মিত খেতে আসেন।

উদ্যোক্তা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলেন: "অনেকে এক কেজি চালের ভাত পর্যন্ত খেয়ে ফেলে, আমি তাতে খুশিই হই। মানুষকে পেট ভরে খাওয়ানোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শান্তি।"

অবস্থান ও যোগাযোগ

গাইবান্ধা রেল স্টেশন থেকে বড় মসজিদ বা গোরস্থান হয়ে মাত্র ১০ টাকা অটো ভাড়ায় আসা যায় ‘ত্রিমোহিনী’ এলাকায়। সেখানে গেলেই যে কেউ এই জনপ্রিয় হোটেলের খোঁজ বলে দেবেন।