মাত্র ৬০ টাকায় বিরিয়ানি! স্ত্রীর পরামর্শে জনি মিয়ার অবিশ্বাস্য সফলতা

মাত্র ৬০ টাকায় বিরিয়ানি! স্ত্রীর পরামর্শে জনি মিয়ার অবিশ্বাস্য সফলতা

সংযোগের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুকে প্রচারিত জনি মিয়ার পুরো গল্পটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

আমার চিন্তাভাবনা ছিল এরকম আমি সাতদিন সাত রকম আইটেম বিক্রি করবো। তো আমি আমার ওয়াইফের সাথে শেয়ার করলাম অল্প দামে চিকেন বিরিয়ানি দেওয়া যায় কিনা বা ৬০-৭০ টাকায় বা ১০০ টাকায়। বলার সাথে আর কি ও বলছে যে হ্যাঁ তুমি পারবা, তুমি এটা করতে পারবা। আসলে আমার ওয়াইফ যখন বলছে যে তুমি পারবা, আমি ওই কথাতে আর কোন পিছুটান আমার ছিল না। আমি কাউকে জিজ্ঞাসাও করি নাই। আমরা দুইজন পরামর্শ করে আমি মূলত এটা শুরু করছি।

আমি ৬০ টাকায় চিকেন বিরিয়ানি বিক্রি করি। পাবলিক লাইব্রেরির যে বিপরীত পাশে, অর্থাৎ দক্ষিণ পাশে রেড ক্রিকেশন অফিসের সামনে আমি বসি। আমি বিকাল তিনটা থেকে রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত আমি এখানে বিক্রি করি। আমি রিসেন্টলি আমার গাড়িটা চেঞ্জ করছি। এর আগে আমার ভ্যান গাড়ি ছিল, ওইটা আর কি চালাইয়া নিয়ে আসতে হইতো, প্রচুর কষ্ট হইতো।

দুই তিন মাস ব্যবসা করার পর মিনিমাম একটা এমাউন্টের আর কি ইনভেস্টমেন্ট করলাম আমি, যাতে করে আমার একটু কষ্ট লাঘব হয়, সময় বাঁচে এবং আমি একটু যখন আমার সেল খারাপ হবে অথবা কোন অনুষ্ঠান হবে অন্যান্য জায়গায় হয়তোবা সেখানেও আমি ট্রান্সফার করতে পারি বা ভ্রাম্যমানভাবে আমি যেন আমার বিরিয়ানিটা বিক্রি করতে পারি অথবা প্রচার করতে পারি, এই জন্য আমি চেঞ্জ করলাম। ইন্ডিয়ার কিছু গাড়ি দেখছি, ওই গাড়ি দেখে মূলত আমি অনুপ্রাণিত হয়ে আমি গাড়িটা এটা তৈরি করছি।

আলহামদুলিল্লাহ গাড়িটা তৈরি করার আগে আমার বিজনেস আলহামদুলিল্লাহ ভালোই চলতেছিল। সংযোগে ভিডিও প্রকাশের পর আরো ভালো হইছে আলহামদুলিল্লাহ ব্যবসা। কিন্তু বর্তমানে মার্কেট একটু খারাপ, যার কারণে আমি একটু ব্যবসার অবস্থাটা মানে ওইরকম ভালো না, যতটা আশা করি আর কি।

গাড়িটা বানানোর পর মানুষের আমার গাড়ির প্রতি আকর্ষণ একটু বাড়ছে। আগে হয়তোবা আমার গাড়িটা দেখে অনেকেই বলতো যে আমি আপনার হালিম বিক্রি করি অথবা অন্যান্য আইটেম বিক্রি করি। এটা বলতো আরকি। আমার কাছে একটু অকওয়ার্ড লাগতো জিনিসটা যে আমি আসলে বিরিয়ানি বিক্রি করি। তো ঐ কারণে মূলত চেঞ্জ করা। এখন আলহামদুলিল্লাহ মানুষ আসে, মানুষ অন্তত মানে খাবার না নিলেও দেখে অন্তত যে না গাড়িটা সুন্দর হইছে।

তো আমার টার্গেটও ছিল এটা যে মানুষ একটা গাড়ি বানাবো, মানুষ দেখে যেন অন্তত দাঁড়ায়। খাবার নেওয়া না নেওয়া পরের হিসাব। তো আমি আপাতত চিকেন বিরিয়ানি বিক্রি করতেছি। তবে আগামী শীতে আমি যদি হাঁসের মাংসটা রেগুলার বিক্রি করতে পারি, মাংসটা যেন কিমা হয় লুচিটা দিয়ে যেন খাইতে পারে- এরকম চিন্তাভাবনা আছে। তবে আমার এখানে ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে আপনারা যদি পাশে থাকেন, মানুষজন যদি আমার খাবারের মান দেখে আমার খাবারটা যদি পছন্দ করে, ইনশাল্লাহ আগামীতে আমি অনেক ধরনের আইটেম ইনশাল্লাহ যোগ করবো, তখন হয়তোবা আমার লোকও থাকবে একসাথে। একেবারেই যেকোনো পণ্যের মূল স্মৃতি না বাড়া পর্যন্ত আমার দাম অপরিবর্তিত থাকবে।

চাকরি তো খুঁজতে গেলে মানুষের মানে ভাব বেড়ে যায় এক প্রকার আর কি। মানুষ কাজ দিবে- অনেক কষ্ট, কিন্তু পারিশ্রমিক দিবে খুবই অল্প। ঢাকাতে অনেক দেখছি যে ১০০ চিকেন বিরিয়ানি, ১০০ কাচ্চি হ্যাঁ, অনেক ধরনের খাবার ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়।

আমার চিন্তাভাবনা ছিল এরকম আমি সাতদিন সাত রকম আইটেম বিক্রি করবো। তো আমি আমার ওয়াইফের সাথে শেয়ার করলাম যে আচ্ছা মানে অল্প দামের ভিতর তো আর গরুর মাংস দেওয়া সম্ভব না। তো অল্প দামে চিকেন বিরিয়ানি দেওয়া যায় কিনা বা ৬০-৭০ টাকায় বা ১০০, বলার সাথে আর কি ও বলছে যে হ্যাঁ তুমি পারবা তুমি এটা করতে পারবা।

যদিও প্রথম দিকে আমার একটু সংকোচ ছিল যে আমি মানে চাকরি বাকরি বাদ দিয়ে আমি পড়াশোনা শেষ করে এভাবে ফুটপাথে বসবো, মানুষ কি বলবে না বলবে। কিন্তু আসলে আমার ওয়াইফ যখন বলছে যে তুমি পারবা, আমি ওই কথাতে আর কোন পিছুটান আমার ছিল না। আমি কাউকে জিজ্ঞাসাও করি নাই। আমরা দুইজন পরামর্শ করে আমি মূলত এটা শুরু করছি।

সবার প্রথমে তো আল্লাহ তাআলার রহমত বরকত আছেই, কিন্তু আমার ওয়াইফের হয়তোবা সাপোর্ট ছিল জন্যই আমি এতদূর আসতে পারছি। সংযোগ চ্যানেলটা সম্পর্কে আমি প্রথমে জানতাম না। আমার বন্ধু সাফি ওর ভিডিওটার পর আমি আর কি সংযোগ চ্যানেলটা সম্পর্কে জানতে পারছি। তো আমি সংযোগ চ্যানেলের বিভিন্ন ভিডিওগুলো একটু দেখি।

আমি খেয়াল করলাম যে উদ্যোক্তা নিয়েই মূলত সংযোগ চ্যানেলের কাজ আর কি। উদ্যোক্তা হওয়ার যে মানে প্রসেসটা, গল্পটা কিভাবে তারা এখানে আসলো। আসলে একজন উদ্যোক্তা হওয়া খুবই সহজ ব্যাপার না। একজন উদ্যোক্তা হইতে হলে মানুষের মানুষের সামনে দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকতে হবে, মানুষ কিছু বলে সেটা শুনে সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে, অনেক কিছু মাথায় নিয়ে একজন উদ্যোক্তা হইতে হয়।

যখন দেখলাম যে, না উদ্যোক্তা নিয়ে তৈরি হওয়ার গল্প তুলে ধরে, তো তারা আর কি এই ধরনের কাজগুলো করে। আমার কাছে মনে হয় ভালো লাগে। আসলে দেশের মানুষ, আমাদের মানুষ আসলে জানতে পারে যে বর্তমানে এই কঠিন পৃথিবীতে লজ্জা শরম করে কোন কিছু, কোনো কাজ বন্ধ করার থাকার কোন মানে মানেই হয় না। আমার যে প্রতিভা আছে সেটা দেখানোর মধ্যেই আমার সফলতা মানে অপেক্ষা করে, আমি যেটা মনে করি আর কি।

তো আমার যে লম্বা প্রসেসটা, এই প্রসেসটা সংযোগ দিয়ে তুলে ধরছে। আলহামদুলিল্লাহ সংযোগ তুলে ধরার মাধ্যমে, আমার গল্পটা তুলে ধরার মাধ্যমে মানুষের যথেষ্ট ভালোবাসা পাইছি এবং আলহামদুলিল্লাহ আমার বিভিন্ন জায়গা থেকে পলাশবাড়ি বলেন, দাড়িয়াপুর বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসে আমার এই ৬০ টাকা চিকেন বিরিয়ানির টেস্ট করে যায়।

তো হয়তো সংযোগ চ্যানেলটা এইভাবে তুলে না ধরলে আমার হয়তোবা এভাবে প্রচার হইতো না আর কি। আমি সংযোগ চ্যানেলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। পাশাপাশি এটাও বলতে চাই যে আগামীতে যারা নতুন উদ্যোক্তা আছে, যারা কষ্ট করে জীবনের খুব কঠিন সময় পার করে এইরকম পর্যায়ে আসতে চাচ্ছে, তাদের গল্পটা যেন সবার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় এবং মানুষের যেন পাশে পাশে থাকা হয়।

আমি মনে করি এইরকম চলতে থাকলে সংযোগ চ্যানেল ইনশাল্লাহ অনেকদূর যাবে। একটা দিন দেখা যাবে যে সংযোগ চ্যানেলটার নাম মানুষের মুখে মুখে থাকবে। আমি সংযোগ চ্যানেলের জন্য শুভকামনা জানাই এবং সংযোগ চ্যানেলের সাথে যে টিম কাজ করে আমি সবার দীর্ঘায়ু কামনা করি, সবার জন্য আমি দোয়া করি আল্লাহ তাআলা যেন তাদেরকে সবাই সবাইকে সুস্থ রাখেন।