মাসকালাই চাষে কৃষকের হাহাকার ও নদী ভাঙনের গল্প

মাসকালাই চাষে কৃষকের হাহাকার ও নদী ভাঙনের গল্প ( গাইবান্ধার দূর্গম চরাঞ্চলের কৃষকের সাক্ষাৎকার সরাসরি তুলে ধরা হলো। 

আমার এখানে এক একরের মতো জমি আছে, বর্তমানে মাসকালাই আবাদ করছি। কিন্তু সমস্যা হলো, এই এলাকায় সরকারি কোনো বীজ বা সাহায্য পেলাম না। এই দেড় মাসের মধ্যে কেউ খোঁজ নিতেও আসলো না। আমি ঢাকা থেকে এসে নিজের গাঁটের পয়সায় বাজার থেকে ওষুধ কিনে স্প্রে করছি। আমার আশা ছিল এখান থেকে অন্তত ২০-২৫ হাজার টাকা আসবে, কিন্তু এখন সব শেষ।এবার তো ঠিকমতো বন্যা হয়নি। বন্যা কম হওয়ায় জমিতে পলি মাটি আসেনি, আর পলি না আসায় এই পোকার উপদ্রব বেড়েছে। কৃষি অফিসারদের (বিএস) জানালেও তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি।

শুধু পোকা না, আমাদের বড় শত্রু এই নদী। গত বছরও আমার কয়েক একর জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। এতে আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকা লস হয়েছে। নদী যদি এভাবে আমাদের সম্পদ কেড়ে নেয়, তবে আমরা বাঁচবো কী করে? সরকার যদি নদী রক্ষায় কিছু বস্তা বা বাঁধের ব্যবস্থা করতো, তবে আমাদের এই লোকসান হতো না। সম্পদ চলে গেলে কার না খারাপ লাগে? পরশু ধান নাই, জমি ভাইঙা গেছে, সব শেষ !

আমাদের একেক বিঘা জমি আবাদ করতে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু যখন ফসল বিক্রি করতে যাই, তখন দাম পাই না। এর ওপর আছে ঋণের বোঝা। এনজিও থেকে ঋণ নিলে চড়া সুদ দিতে হয়, আর স্থানীয় মহাজনদের থেকে ১ লক্ষ টাকা নিলে ছয় মাসেই ৪০ হাজার টাকা লাভ দিতে হয়।

যেখানে জমিই ঠিক থাকে না, সেখানে আমাদের কৃষকদের কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকতে পারে না। গত বছর দুই একর জমি চলে গেল, এবার ফসল পোকার পেটে। চরের মানুষের কোনো স্বপ্ন বা পরিকল্পনা টিকে থাকে না।

ইউটিউব ভিডিও লিঙ্ক: https://youtu.be/HQCjoJ1odl0