বগুড়ার ফিল্টার যাচ্ছে ইউকে-কানাডায়!
উত্তরের জেলা বগুড়া এখন কেবল দইয়ের জন্য নয়, বরং বিশ্বমানের যন্ত্রাংশ তৈরির কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে। বগুড়ার বিসিক শিল্পনগরীতে তৈরি হওয়া গাড়ির ফিল্টার এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে যুক্তরাজ্য (ইউকে) এবং কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোতে রপ্তানি হচ্ছে। ইঞ্জিনের সুরক্ষায় অপরিহার্য এই যন্ত্রাংশটি বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতার এক নতুন গল্প তুলে ধরছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া
উত্তরের জেলা বগুড়া এখন কেবল দইয়ের জন্য নয়, বরং বিশ্বমানের যন্ত্রাংশ তৈরির কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে। বগুড়ার বিসিক শিল্পনগরীতে তৈরি হওয়া গাড়ির ফিল্টার এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে যুক্তরাজ্য (ইউকে) এবং কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোতে রপ্তানি হচ্ছে। ইঞ্জিনের সুরক্ষায় অপরিহার্য এই যন্ত্রাংশটি বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতার এক নতুন গল্প তুলে ধরছে।
বগুড়া মোটরসের হাত ধরে শুরু
১৯৬৫ সালে বগুড়া মোটরস মূলত পুরনো গাড়ি মেরামতের কাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ১৯৮৯ সালে তারা প্রথমবার দেশীয়ভাবে ফিল্টার উৎপাদন শুরু করে। বাজারে আসার পরপরই তাদের তৈরি এয়ার ফিল্টার, অয়েল ফিল্টার, ফুয়েল ফিল্টার এবং হাইড্রোলিক ফিল্টার ব্যাপক সাড়া ফেলে।
আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি ও রপ্তানি
মানসম্মত পণ্য উৎপাদনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে আইএসও (ISO) সনদ অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো কানাডায় ফিল্টার রপ্তানি শুরু হয়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ১১,২৫০ মার্কিন ডলার মূল্যের ফিল্টার রপ্তানি করে বগুড়া মোটরস আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
উৎপাদন প্রক্রিয়া
ফিল্টার তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে বিশেষ ফিল্টার পেপার এবং শক্তিশালী আঠা ব্যবহার করা হয়, যা চীন ও কোরিয়া থেকে আমদানি করা হয়। আমদানির পর আধুনিক মেশিনে প্লিটিং এবং বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহনের উপযোগী আকৃতি দেওয়া হয়। প্রতিটি ধাপ শেষে কঠোরভাবে মান যাচাই করা হয়।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
সাফল্যের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হচ্ছে এই শিল্পকে। এলসি (LC) সংকট এবং বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবুও এই খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে এবং বর্তমানে বগুড়াতে আরও তিনটি ফিল্টার উৎপাদনকারী কারখানা গড়ে উঠেছে।
আগামীর স্বপ্ন
বাস, ট্রাক, কার কিংবা মোটরসাইকেল- সব ধরনের ইঞ্জিনের সুরক্ষায় বগুড়ার এই ফিল্টার এখন আস্থার নাম। সংগ্রাম আর উদ্ভাবনের মাধ্যমে বগুড়ার এই ফিল্টার শিল্প বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছে। যথাযথ সরকারি সহযোগিতা পেলে এই খাতটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।



