নদী ভাঙন থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এক সাউন্ড ব্যবসায়ীর সংগ্রামী জীবন
ব্যবসা
নিজস্ব প্রতিবেদক: নব্বইয়ের দশকের গ্রামীণ সমাজ বা যেকোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে মাইকের চেনা আওয়াজ ছাড়া আনন্দ যেন জমতো না। সেই সোনালী সময়ে নদী ভাঙনের সর্বস্বহারা জীবন থেকে লড়াই করে গাইবান্ধায় মাইক ব্যবসার গোড়াপত্তন করেছিলেন এক অদম্য মানুষ। একটিমাত্র সেট দিয়ে শুরু করা সেই ব্যবসা একসময় তাকে নিয়ে গিয়েছিল সাফল্যের চূড়ায়, যেখানে তাকে ছাড়া বিয়ে কিংবা আকিকার মতো সামাজিক অনুষ্ঠান কল্পনা করাই কঠিন ছিল।
উদ্যোক্তারা জানান, নদী ভেঙে শহরে এসে পানের দোকান ও প্রাইভেট পড়ানোর জমানো টাকায় প্রথম সাউন্ড সিস্টেম কেনেন তিনি। পরবর্তীতে কাজের মান ও বিশ্বস্ততার কারণে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ জাতীয় নেতাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশেও তার মাইক ব্যবহারের সুযোগ হয়। ক্যাসেটের ফিতা ঘুরিয়ে রেকর্ডিং করার সেই প্রাচীন যুগ পেরিয়ে আজ ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগলেও বর্তমান বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে এই ব্যবসার চিত্র পাল্টে গেছে। ইউনিয়নের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে দোকানের ছড়াছড়ি এবং আয়ের হার কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী পেশা আজ কোণঠাসা।
তবে শত প্রতিকূলতা আর সামাজিক অবমূল্যায়নের মাঝেও এই ব্যবসার আয় দিয়ে তিনি নিজের তিন সন্তানকে মানুষ করেছেন; বড় ছেলে পড়াশোনা শেষ করে আজ গবেষণার সাথে যুক্ত আছেন। আগামী দিনে হয়তো এই পেশায় নতুন প্রজন্ম আসবে না, তবুও সততা ও পরিশ্রমে গড়া এই মাইক ব্যবসায়ীর জীবনসংগ্রাম উত্তরবঙ্গের জনপদের এক অনুপ্রেরণাদায়ী ইতিহাস হয়ে থাকবে।