২ টি মাছ দিয়ে শুরু! এখন মাসে আয় ৬০,০০০ টাকা।

মাছ

মাসে ৫০–৬০ হাজার টাকা আমাদের ইনকাম হয়ে আসে। খরচ বাদ দেওয়ার পরও আমি মনে করি ২০–৩০ হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব। এটা খুব স্বাভাবিক একটা বিষয় যে আপনি যদি ৫০–৬০ হাজার টাকা নেন, তার মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ আপনার লাভ হিসেবে থাকে।

২০–২৫ বছর আগে আমি দুটো মাছ দিয়ে একুরিয়ামে মাছ পালন শুরু করি। দীর্ঘদিন এই মাছগুলোর পরিচর্যা করেছি। আমার বাসা ছিল রোডসাইডে, তাই আমার একুরিয়ামের মাছ দেখার জন্য অনেক মানুষ ভিড় করত। এমনকি রিকশাওয়ালারা, কলেজের ছাত্ররাও এসে ভিড় করত। এইভাবে আমি আমার বাসার সামনে বারান্দায় পাখি ও মাছের একটি প্রদর্শনীমূলক জায়গা তৈরি করি। প্রতিদিনই মাছ ও পাখি দেখার জন্য অনেক মানুষ আসত।

আমি দীর্ঘ ২০ বছর চাকরি করেছি। গাইবান্ধা এবং আশপাশের প্রায় ১২–১৩টি জেলায় আমি কাজ করেছি। বিভিন্ন উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলেছি। চাকরির জীবন থেকেই আমার মনে হতো যে আমি নিজে কিছু করব এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করব। এই চিন্তা থেকেই আমার উদ্যোক্তা জীবনের শুরু।

যেহেতু আমি মাছ, পাখি ও বিভিন্ন প্রাণী পালন করি, তাই এদের সঙ্গে আমার ভালো অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। “রকবালি” নামে আমি গাইবান্ধায় একটি নতুন প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাই, মধ্যপাড়ায়। এখানে আমি মাছকে মূল বিষয় হিসেবে নিয়েছি। এখানে অনেক একুরিয়াম আছে, যেখানে বিভিন্ন রঙিন মাছ রয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এই রঙিন মাছ সংগ্রহ করি।

রঙিন মাছের পাশাপাশি একুরিয়াম, একুরিয়ামের ডেকোরেশন সামগ্রী—এসব আমি ঢাকা কাটাবন থেকে সংগ্রহ করি। এছাড়াও ফেনী, সাতক্ষীরা, যশোর, বগুড়া সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মাছের কালেকশন করি। এখন আমি একজন পরিপূর্ণ উদ্যোক্তা। এখানে মাছের পাশাপাশি অনেক পাখিও রয়েছে। আমি পাখি রাখি, মাছ রাখি, এবং আরও বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করছি।

উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নটা আমি এখনো লালন করছি এবং ভবিষ্যতে আরও কিছু করতে চাই। আমার জীবনের শুরুতে আমি দুটি কমেট মাছ কিনেছিলাম, প্রতিটি ৩০ টাকা করে। প্রায় ১০ বছর সেই মাছ আমার কাছে ছিল এবং অনেক বড় হয়েছিল। সেই মাছ দেখার জন্য অনেক মানুষ আসত।

বর্তমানে আমি বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ সংগ্রহ করছি। শুরুতে আমি প্রায় ২০ হাজার টাকা দিয়ে একুরিয়াম তৈরি করি এবং আরও ২০ হাজার টাকা দিয়ে মাছ কিনি। গাইবান্ধায় অনেক মানুষ সৌখিন হলেও আগে এই জিনিসগুলো সহজে পাওয়া যেত না। এখন এখানে একটা চাহিদা তৈরি হয়েছে। গাইবান্ধায় এখন বেশ কিছু একুরিয়ামের দোকান রয়েছে এবং মানুষের প্রত্যাশাও বাড়ছে।

মানুষের সৌখিন ব্যবসাটা একটা চ্যালেঞ্জ, আর এই চ্যালেঞ্জ আমাদের নিতেই হয়। আমাদের এখানে ওয়াটার ফিল্টার, লাইটিং সবকিছুই লাগানো আছে। কিন্তু শুরুতে দেখা গেছে অনেক মাছ মারা গেছে। তখন আমি থমকে গিয়েছিলাম—এত টাকার মাছ এভাবে মারা গেলে ব্যবসা চলবে কীভাবে? কিন্তু যখন মাছের পরিচর্যা শিখে ফেলি, তখন সবকিছু সম্ভব হয়।

বর্তমানে মাছের ব্যবসা খুব ভালো চলছে। আমরা মাছ দেখেই বুঝতে পারি কোন মাছ রোগে আক্রান্ত। রোগে আক্রান্ত হলে মাছের মুভমেন্ট কমে যায়, দুর্বল হয়ে পড়ে, ফাঙ্গাস দেখা যায়। মাছ যেহেতু জীবন্ত প্রাণী, তাই রোগ হবেই। তখন আমরা আক্রান্ত মাছকে আলাদা একুরিয়ামে রাখি, যাতে অন্য মাছ আক্রান্ত না হয়। বিভিন্ন ধরনের মেডিসিন আমরা ব্যবহার করি।

আমি মাছ, পাখি ও বিভিন্ন প্রাণীর এই সৌখিন জগৎটা গাইবান্ধার মানুষের হাতে তুলে দিতে চাই। এখানে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পাখি রয়েছে—বাজরিগার পাখি, ককাটেল পাখি ইত্যাদি। পাখির খাঁচা, খাবার পাত্র—সবকিছুই আমাদের এখানে পাওয়া যায়।

এটা হচ্ছে কাচের একুরিয়াম। এতে মাছ পালন করা হয়। এখানে বিভিন্ন সাইজের ফিল্টার আছে, মাছ ধরার নেট আছে, বিভিন্ন ধরনের সিনারি আছে যেগুলো একুরিয়ামের ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করা হয়। পানি পরিষ্কার করার জন্য সাইফন আছে, হিটার আছে, লাইট আছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের গাছ আছে, খুব কম দামে। একুরিয়াম সাজানোর জন্য সুন্দর বটগাছের ডিজাইনও রয়েছে।

এখানে সুন্দর শোপিস আছে, সামুক আছে, চরকি আছে যেগুলো ঘুরে। মাছের খাবার আছে, মেডিসিন আছে, বিভিন্ন ধরনের লাইট আছে—এই ধরনের সব জিনিসই আমাদের এখানে পাওয়া যায়।