ছাদ থেকেই কোটি টাকার স্বপ্ন!
স্বপ্ন
তো এগুলো হচ্ছে স্নেক প্লান্ট। বিভিন্ন ধরনের স্নেক প্লান্ট আছে—৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এখানে ৩০ টাকার আছে, মিক্স আছে। এখানে ৫০ টাকার আছে। এপাশে লাকি ব্যাম্বু আছে। এগুলো বিক্রি হয় স্টিক হিসেবে। স্টিক প্রতি ২০ টাকা। এক স্টিকে দুইটা থাকে, দুইটা নিলে ৪০ টাকা। আর সবুজ কালারের যেগুলো আছে, সেগুলো স্টিক প্রতি ১৫ টাকা। এবার সাদা কালারের যেগুলো আছে, সেগুলো স্টিক প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।
একজন আমাকে অফার দিয়েছিল যে গাইবান্ধায় একটি নার্সারি আছে, সেখানে গাছের উৎপাদন ও পরিচর্যার কাজ করার জন্য লোক লাগবে। আলাপ হওয়ার পরে আমি সেখানে যাই। কিবরিয়া ভাইয়ার সঙ্গে কথা হয়। সেখানে আমি দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর চাকরি করি। চাকরি করতে করতে গাছের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। তখন ভাবলাম, নিজের একটা ব্যবসা করব—গাছ নিজে তৈরি করব, নিজে বিক্রি করব। একটা পেজ থাকবে, আমার নামে নার্সারি থাকবে।
আস্তে আস্তে চারা উৎপাদন শুরু করি। অনেক চারা এখন আমাদের কাছে আছে। কাজ করতে করতে অভিজ্ঞতা বাড়লো। তখন মনে হলো ছোট জিনিস দিয়ে শুরু করি—কম দামের ফুলের চারা, বিভিন্ন ধরনের পাতা বাহার গাছ। আমার বাড়িতে একটা পুরোনো ঘর ছিল, সেখানে ছোট্ট জায়গায় মাটির ওপর জিও ব্যাগে, কালো পলিতে স্টারিং করা শুরু করি। ছাদেও চারা উৎপাদন শুরু করি।
চাকরির মাইনের টাকা থেকে ধীরে ধীরে ২০০, ৪০০, ৫০০, ১০০০ টাকা করে ইনভেস্ট করতে থাকি। এভাবে করে এই পর্যায়ে আসি। এখন এখানে বিভিন্ন ধরনের স্নেক প্লান্ট, লাকি ব্যাম্বু, স্পাইডার প্লান্ট, ইনডোর প্লান্ট, ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট আছে। কিছু ফলের চারা আছে। অনেক ধরনের সবজি চারা আছে, বড় বড় জিও ব্যাগে সব ধরনের চারা পাওয়া যাবে।
একজন কর্মী থেকে একজন মালিক হওয়ার স্বপ্ন সবারই থাকে। আমারও ছিল। অন্যের চাকরিতে অনেক সময় বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু নিজের ব্যবসা থাকলে স্বাধীনতা থাকে। তখন কেউ কিছু বলবে না, জবাবদিহিও কম থাকে। তাই ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসা গড়ে তোলার চেষ্টা করি।
অনেক মানুষ আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। এটা শুধু ব্যবসা না, গাছের সঙ্গে প্রকৃতির একটা ভালোবাসা। কেউ নিষেধ করেনি। কিন্তু যারা এই কাজ করতে চায়, তাদের আগে জানতে হবে—কিভাবে চারা তৈরি করতে হয়, মাটি প্রস্তুত করতে হয়, গাছের যত্ন ও ওষুধ কীভাবে দিতে হয়। এগুলো না জানলে সফল হওয়া যায় না।
এই গাছগুলো আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করি—আশেপাশের নার্সারি, বগুড়া, ঢাকা ইত্যাদি জায়গা থেকে। এক জায়গায় সবকিছু পাওয়া যায় না। বিভিন্ন জায়গা থেকে এক–দুইটা করে আইটেম এনে সেগুলো থেকে চারা তৈরি করি। বড় গাছ হলে সেখান থেকে আবার নতুন চারা তৈরি করে বিক্রি করি।
অনেকেই আমাকে বলে আমি নাকি খুব লাকি, কারণ আমি প্রকৃতির সঙ্গে থাকতে পারি। অনেক গাছপ্রেমী আছেন যারা চাকরি করেন, গাছ কিনে রাখেন, কিন্তু ঠিকভাবে পানি ও যত্ন না দেওয়ায় গাছ মারা যায়। তখন তারা বলে—আপনারটা দেখে ভালো লাগে, আমরা ঠিকভাবে যত্ন করতে পারি না।
এখানে আবার বলছি—স্নেক প্লান্ট ৩০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আছে। ৩০, ৫০, ২০০, ২৫০, ৪০০, ৫০০ টাকার গাছ আছে। লাকি ব্যাম্বু স্টিক প্রতি ২০ টাকা, দুইটা নিলে ৪০ টাকা। সবুজ কালার স্টিক ১৫ টাকা, সাদা ভেরিগেটেড লাকি ব্যাম্বু স্টিক ২৫ থেকে ৩০ টাকা।
সব মিলিয়ে এখানে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার গাছ আছে। আমার একটি ফেসবুক পেজ আছে—“সৈকত নার্সারি” নামে। সেখানে আমার নাম্বার ও সব ডিটেইলস দেওয়া আছে। আমার নার্সারিটি তুলসীঘাট থেকে পল্লী বিদ্যুৎ পার হয়ে একটু সামনে। যারা নিতে চান, তারা সরাসরি আসতে পারেন ইনশাআল্লাহ।
ঢাকায় বা ঢাকার বাইরে, গাইবান্ধায়—যেভাবে কেউ নিতে চান, সেভাবেই দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। সবাই আমার পেজ ফলো করবেন এবং যোগাযোগ করবেন।



