আধুনিক ইনকিউবেটরে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর সহজ কৌশল

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঘরে বসেই মুরগির বাচ্চা ফোটানো সম্ভব হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতিতে মুরগির নিচে ডিম রেখে বাচ্চা ফোটানোর বদলে এখন ‘ইনকিউবেটর’ ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভিত্তিতে শত শত বাচ্চা ফোটানো হচ্ছে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর বিভিন্ন ধাপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

ইনকিউবেটরের সুবিধা ও সক্ষমতা ইনকিউবেটর ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—একসাথে অনেক বেশি পরিমাণ ডিম ফোটানো যায়। উদ্যোক্তার মতে, চাহিদা অনুযায়ী ১,০০০, ১,৫০০ বা ২,০০০ ডিম ফোটানোর উপযোগী মেশিন তৈরি করে নেওয়া সম্ভব। বর্তমানে তার কাছে ৮০০ ডিমের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি সেটআপ রয়েছে, যার মধ্যে ৬০০টি সেটার (Setting) এবং ২০০টি হ্যাচার (Hatching) ইউনিটের জন্য বরাদ্দ।

তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ডিম থেকে সুস্থ বাচ্চা পেতে হলে মেশিনের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা (Humidity) নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে জরুরি।

  • তাপমাত্রা: ডিমের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হলো ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি হয়ে গেলে ডিম নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • আর্দ্রতা: স্বাভাবিক সময়ে আর্দ্রতা ৬০ শতাংশ রাখতে হয়। তবে যখন বাচ্চা ডিম ফুটে বের হওয়ার সময় (Hatching Time) আসে, তখন আর্দ্রতা বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করতে হয়।

বাচ্চা ফোটানোর সময়কাল বিভিন্ন পাখির ডিম ফুটতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ের প্রয়োজন হয়। মেশিনে এই সময়গুলো হলো:

  • মুরগির বাচ্চার জন্য ২১ দিন

  • হাঁসের বাচ্চার জন্য ২৮ দিন

  • চীনা হাঁসের বাচ্চার জন্য ৩৬ দিন

সাশ্রয়ী পদ্ধতি ও সতর্কতা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের জন্য ইনকিউবেটরের পুরো সক্ষমতা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন এই উদ্যোক্তা। অল্প ২০-৫০টি ডিম ফুটাতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়, মেশিনের পুরো সক্ষমতা অনুযায়ী ৮০০ ডিম ফুটাতেও প্রায় একই খরচ হয়। এছাড়া ভালো ফলাফল পেতে অবশ্যই মানসম্মত ‘বীজ ডিম’ বা উর্বর ডিম ব্যবহার করতে হবে। যদি ডিম ১০০% উর্বর হয়, তবে শতভাগ বাচ্চা পাওয়া সম্ভব।

দেশি মুরগির সম্ভাবনা উদ্যোক্তা বর্তমানে দেশি মুরগির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ দেশি মুরগির রোগব্যাধি কম এবং এর লালন-পালন খরচও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। দেশি ছাড়াও টাইগার, মিশরি বা ফাওমি জাতের মুরগির ডিমও এই পদ্ধতিতে সফলভাবে ফোটানো সম্ভব।

আধুনিক ইনকিউবেটর ব্যবহারের মাধ্যমে বেকার যুবকরা স্বল্প পুঁজিতে মুরগির বাচ্চা ফোটানোর ব্যবসা শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।