ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে মেকানিক
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবেন। কিন্তু পারিবারিক অভাব-অনটন আর ভাগ্যের ফেরে পড়াশোনা বেশিদূর এগোয়নি। তবুও দমে যাননি তিনি। নিজের মেধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি আজ একজন দক্ষ অটো-মেকানিক। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই পরিশ্রমী মেকানিকের জীবনের চড়াই-উতরাই ও সফলতার গল্প উঠে এসেছে।
সংগ্রামের শুরু গ্যারেজ থেকে আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে অভাবের তাড়নায় গ্যারেজের কাজ শিখতে শুরু করেন তিনি। শুরুর দিনগুলো ছিল অত্যন্ত কষ্টের। গ্যারেজেই খাওয়া-দাওয়া আর থাকা। হাত-পা কেটে যাওয়া, নখ থেঁতলে যাওয়া কিংবা দাঁত ভেঙে যাওয়ার মতো অনেক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। এমনকি প্রথম দুই বছর কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই কেবল লাঞ্চের বিনিময়ে কাজ করেছেন তিনি। পরবর্তীতে সপ্তাহে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেতন পেতেন, যা দিয়ে নিজের হাতখরচ চালাতেন।
কাজের বিশেষত্ব ও অভিজ্ঞতা তিনি মূলত ডিজেল চালিত বড় যানবাহনের কাজ করতে পছন্দ করেন। টাটা পিকআপ, বড় ট্রাক, বাস এবং দুই টনের জ্যাক গাড়ির ইঞ্জিনের খুঁটিনাটি মেরামত করেন তিনি। পেট্রোল চালিত গাড়ির চেয়ে ডিজেল গাড়ির মেকানিজমে তার দক্ষতা ও আগ্রহ বেশি। তার মতে, “এই লাইনে শেখার কোনো শেষ নেই।” অনেক জটিল কাজ যা অন্য মিস্ত্রিরা করতে পারেন না, তিনি তা নিজের বুদ্ধিমত্তায় অনায়াসেই সমাধান করে ফেলেন।
বিনিয়োগ ও বর্তমান আয় গাইবান্ধার সুমুঙ্গীর মোড় এলাকায় তার বর্তমান কর্মস্থল। নিজের গ্যারেজটি শুরু করেছিলেন মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার সরঞ্জাম দিয়ে। বর্তমানে তার আয় নির্দিষ্ট নয়; কোনো মাসে ২০ হাজার টাকা আবার কোনো মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হয়। করোনার সময় অর্থনৈতিকভাবে বেশ সংকটে পড়লেও এখন মোটামুটি জীবনযাপন করার মতো আয় তার রয়েছে।
স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ বর্তমানে তার প্রধান লক্ষ্য হলো আরও উন্নত মানের টুলস কেনা এবং গ্যারেজটিকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে নেওয়া। ছোটবেলায় ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার যে সুপ্ত ইচ্ছা ছিল, তা তিনি আজ এই মেকানিক পেশার মাধ্যমেই পূর্ণ করছেন। তিনি মনে করেন, যে কাজ অসম্ভব মনে হয়, তাকে সম্ভব করাই হলো আসল কারিগরি।
অভাবের কাছে হার না মেনে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলা এই মেকানিক এখন স্থানীয় তরুণদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।



