শহরের অন্যতম জনপ্রিয় আড্ডার স্থান

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রেললাইনের পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গা, যেখানে এক সময় চলত মাদকের আড্ডা। আজ সেই জায়গাটিই গাইবান্ধা শহরের অন্যতম জনপ্রিয় আড্ডার স্থান এবং মানসম্মত খাবারের ক্যাফেতে পরিণত হয়েছে। এমনকি জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও এবং অতিরিক্ত এসপিদের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও পদচারণা ঘটে এই ক্যাফেতে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই পরিবর্তনের পেছনের কারিগর এক তরুণের সংগ্রামের গল্প উঠে এসেছে।

সংগ্রামের শুরু ও বাধা ২০২১ সালে মাত্র ৮০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসার যাত্রা শুরু করেন ওই তরুণ। শুরুতে এক বন্ধুর সাথে মিলে একটি ছোট ফুডকার্টে ফুচকা ও চটপটি বিক্রি করতেন। কিন্তু মাঝপথে বন্ধুটি ব্যবসা ছেড়ে চলে গেলে তিনি অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েন। পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। সেই সংকটময় সময়ে তার মা তাকে সাহস জোগান এবং ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন।

অভাবকে জয় করে সফলতায় মায়ের অনুপ্রেরণায় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বড় পরিসরে ব্যবসা শুরু করার ঝুঁকি নেন তিনি। পরিত্যক্ত জায়গাটিকে পরিষ্কার করে একটি দৃষ্টিনন্দন ঘর তৈরি করেন। বর্তমানে তার এই ক্যাফেতে ৫ জন কর্মী কাজ করছেন। বার্গার, স্যান্ডউইচ, নাচোস, ফ্রাই, চাউমিন, পাস্তা, মিল্কশেক, লাচ্ছি ও কোল্ড কফির মতো আধুনিক সব খাবার এখানে পাওয়া যায়।

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পছন্দের জায়গা ক্যাফেটির পরিবেশ অত্যন্ত নিরিবিলি ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় খুব দ্রুতই এটি শহরের বিশিষ্টজনদের নজরে আসে। উদ্যোক্তা বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেট থেকে শুরু করে ইউএনও এবং এডিশনাল এসপি পর্যন্ত সবাই এখানে আসেন।” বিকেলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অনেক পরিবারও এখানে সময় কাটাতে ভিড় করে।

আয় ও কর্মসংস্থান ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক সময় কর্মীদের বেতন দিতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। সব খরচ মিটিয়ে বর্তমানে তার মাসিক আয় গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা থাকে। তবে টাকা উপার্জনের চেয়ে নিজের একটি সৎ ও হালাল ব্যবসা পরিচালনা করতে পেরে তিনি মানসিক প্রশান্তি পান।

ভবিষ্যৎ ভাবনা নিজের চেষ্টায় আজ এই অবস্থানে পৌঁছানো তরুণ উদ্যোক্তা মনে করেন, জীবনে ঝুঁকি না নিলে বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে তার এই প্রতিষ্ঠানকে আরও আধুনিক এবং বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পরিত্যক্ত একটি জায়গাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করে তিনি এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।