কলকাতা থেকে বগুড়া শত বছরের ইতিহাস পেরিয়ে দেশের সীমানায়

ঐতিহ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের আনন্দ বা ইফতারের আয়োজন—সেমাই ছাড়া যেন বাঙালির মিষ্টিমুখের কল্পনাও করা যায় না। আর এই সেমাইয়ের কথা উঠলেই সবার আগে চলে আসে উত্তরের জেলা বগুড়ার নাম। শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে বগুড়ার চিকন লাচ্ছা সেমাই আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দারুণ সমাদৃত।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, দেশভাগের আগে কলকাতা ও হুগলি থেকে ট্রেনযোগে রঙিন লাচ্ছা সেমাই আসত। পরবর্তীতে কলকাতার অভিজ্ঞ কারিগরদের হাত ধরে ১৯৪০-এর দশকে বগুড়ায় শুরু হয় লাচ্ছা তৈরির কাজ। বিশেষ করে বগুড়ার বেজোড়া এলাকা একসময় ‘চিকন সেমাই পল্লী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। আশির দশকে আকবরিয়া বেকারি ও এশিয়া সুইটস এই শিল্পকে আরও এগিয়ে নেয়। পাম অয়েল বা সয়াবিন তেলের পাশাপাশি খাঁটি ঘি ও ডালডার ব্যবহার এই সেমাইয়ের স্বাদকে অনন্য করে তুলেছে।

বর্তমান সময়ে ঈদকে কেন্দ্র করে বগুড়ার ছোট-বড় সহস্রাধিক কারখানায় দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করেন শ্রমিকরা, যার একটি বড় অংশই নারী। রোজার এক-দেড় মাস আগ থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। উৎপাদিত সুস্বাদু চিকন সেমাই ট্রাকযোগে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে যায়। শত বছরের এই শিল্প কেবল একটি খাবার নয়, এটি বগুড়ার অর্থনীতি ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।