বার্মা থেকে আইডিয়া এনে তুষের খড়ি বিক্রিতে লাখ টাকার ব্যবসা
ব্যবসা
নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদা মেটাতে বার্মার (মিয়ানমার) প্রযুক্তি অনুসরণ করে গাইবান্ধায় সফলভাবে গড়ে উঠেছে ধানের তুষের খড়ি তৈরির প্রজেক্ট। অটো রাইস মিলের অবশিষ্টাংশ বা সাধারণ ধানের তুষকে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে শক্ত জ্বালানি খড়িতে রূপান্তর করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। বর্তমানে প্রতিদিন শত শত মণ এই খড়ি উৎপাদিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য ও চাহিদা উভয়ই বেশ তুঙ্গে।
উদ্যোক্তারা জানান, বার্মার একটি প্রক্রিয়া দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা দেশীয় প্রযুক্তিতে তা মডিফাই করেন এবং চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ মোটর ও মেশিন এনে এই কারখানা স্থাপন করেন। এই খড়ির বিশেষত্ব হলো—এতে ধোঁয়া কম হয়, দীর্ঘসময় ধরে তীব্র তাপ পাওয়া যায় এবং বর্ষার দিনেও এটি নষ্ট বা স্যাঁতসেঁতে হয় না।
কাঁচামাল হিসেবে অটো রাইস মিলের বিশুদ্ধ ধানের তুষ ব্যবহার করা হয়। নওগাঁ, রংপুর, সৈয়দপুর ও সাদুল্লাপুরের অটো রাইস মিলগুলো থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ মণ খড়ি উৎপাদিত হচ্ছে। কারখানায় ১০ জন নারী ও ৬ জন পুরুষসহ মোট ১৬ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন।
শীতকাল এবং বিয়ের মৌসুমে (বিয়েশাদি ও কমিউনিটি সেন্টারে) এই খড়ির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি মণ খড়ি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে দোকানদাররা তা ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেন। গাইবান্ধার স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে রংপুর, বগুড়া, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানির নিয়মিত সরবরাহ রয়েছে।
শুরুতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হলেও বর্তমানে ব্যবসা বেশ জমজমাট। কাঁচামালের দাম ও স্টক ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। রান্নার কাজে কাঠের বিকল্প হিসেবে তুষের এই খড়ি গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং বাসাবাড়িতে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
