কুশি কাটায় চাকরি পেলেন মুক্তি রানী
এই ভিডিওতে মুক্তি রানী তার গৃহিণী থেকে একজন ট্রেইনার হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণামূলক যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন। নিচে তার বক্তব্যের বাংলা সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
শুরু ও সংগ্রাম
মুক্তি রানী সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন ধরণের হস্তশিল্পের কাজ শেখেন। তিনি কুশন কভার, শাড়ির কাজ, বেডশিট এবং বাচ্চাদের পোশাক তৈরির মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া এই শিল্পকে পুনরায় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। মূলত পরিবারের সচ্ছলতা এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি নকশিকাঁথা ও ক্রুশ কাজের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন।
প্রশিক্ষণ ও প্রথম ধাপ:
২০০১ সালে তিনি বিসিক (BSIC) থেকে সেলাইয়ের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে বিসিক তাকে ৫,০০০ টাকা ঋণ দেয়, যা দিয়ে পণ্য কিনে তিনি তার ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করেন। দিনের বেলা সময় না পাওয়ায় তিনি রাত জেগে জেগে কাজ শিখতেন এবং পণ্য তৈরি করতেন। অনেক সময় কষ্টসাধ্য মনে হলেও তিনি কখনো হাল ছাড়েননি।
চাকরি ও প্রশিক্ষণ প্রদান:
সেলাই শেখার পর তিনি একটি বুটিক হাউসে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তার মেয়ের উৎসাহে তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরে ট্রেইনার পদের জন্য আবেদন করেন। তার দক্ষতা এবং সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে তিনি সেখানে চাকরি পান। বর্তমানে তিনি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রতি বছর ৪০-৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেন। এমনকি কারাগারের নারী আসামিদেরও তিনি হস্তশিল্পের কাজ শেখাচ্ছেন।
আয় ও পণ্য:
আগে তার আয় কম থাকলেও বর্তমানে চাকরি এবং ব্যবসা মিলিয়ে তার মাসিক আয় প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা। তিনি অনলাইনে এবং সরাসরি তার পণ্য বিক্রি করেন। তার তৈরি বিশেষ পণ্যের মধ্যে রয়েছে:
বাচ্চাদের জামা (দাম প্রায় ৩০০ টাকা)
গোপাল ঠাকুরের পোশাক ও শাড়ি (১০০-১২০ টাকা)
ওড়না এবং থ্রি-পিস
তিনি তার কাঁচামাল গাইবান্ধা, রংপুর বা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করেন। ভবিষ্যতে তার এই হস্তশিল্পের কাজকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তার প্রতিষ্ঠানের নাম 'প্রিয়াঙ্কা হস্তশিল্প', যা গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর রোডের পশ্চিমপাড়া প্রাইমারি স্কুলের কাছে অবস্থিত।
ভিডিওর লিঙ্ক: https://youtu.be/R4HKQqsGP7c?si=jYlTPyXtRU-cqQ9B



