ভ্যান চালক থেকে কোটিপতি

কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

এক সময় যার নুন আনতে পান্তা ফুরাত, ভ্যান চালিয়ে সংসার চলত, আজ তিনি কোটি টাকার মালিক। সততা আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে হলুদের ব্যবসা করে নিজের ভাগ্যকে বদলে দিয়েছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নিচপাড়া গ্রামের ভুলু ভাই। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই সফল ব্যবসায়ীর জীবনের অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের গল্প উঠে এসেছে।

শূন্য থেকে কোটিপতি ভুলু ভাইয়ের এক সময়ের পরিচয় ছিল একজন সাধারণ ভ্যান চালক হিসেবে। আজ তিনি একজন বড় মাপের হলুদ ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক সফলতার মাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যে ৫ থেকে ৭ বিঘা সম্পত্তি কিনেছেন। তার ভাষায়, “আগে কিছুই ছিল না, এখন আল্লাহর রহমতে এই ব্যবসা করেই কোটি টাকার উর্ধ্বে সম্পত্তি করেছি।” বর্তমানে তার সন্তানরাও এই ব্যবসার সাথে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

হলুদের জন্য বিখ্যাত ধাপেরহাট গাইবান্ধার ধাপেরহাট হলুদের জন্য সারা দেশে বিখ্যাত। এখানকার ৬ নম্বর ধাপেরহাট ইউনিয়ন এবং ১৫ নম্বর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি হলুদ উৎপাদিত হয়। এই হাটে কুষ্টিয়া, রাজশাহী, ঢাকা ও ভেরামারা থেকে পাইকাররা হলুদ কিনতে আসেন। প্রতিদিনের হাটে প্রায় কোটি টাকার হলুদ কেনাবেচা হয়। এখানকার উৎপাদিত হলুদ কেবল দেশেই নয়, বরং ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি করা হয়।

হলুদের জাত ও বাজারদর এ অঞ্চলে প্রধানত পাঁচ ধরনের হলুদ পাওয়া যায়— কুকুরুমণি, সরগি, মালংচি এবং হাইব্রিড। এর মধ্যে ‘সরগি’ জাতের হলুদ রান্নার স্বাদের জন্য সারা বাংলাদেশে বিখ্যাত। বর্তমানে সরগি হলুদের বাজারদর মণ প্রতি প্রায় ৮০০০ টাকা (২০০ টাকা কেজি), অন্যদিকে হাইব্রিড জাতের হলুদ বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি ৫৬০০ টাকা (১৪০ টাকা কেজি)। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতি মণে ৫০০০ থেকে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে।

চাষাবাদ ও স্থায়িত্ব হলুদ চাষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। তবে এই পণ্যের একটি বড় সুবিধা হলো, শুকনো হলুদ একবার প্রক্রিয়াজাত করলে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। ভুলু ভাইয়ের মতে, এই ব্যবসায় লস হওয়ার সম্ভাবনা কম, যদি বাজার পরিস্থিতি ঠিক থাকে। তবে উৎপাদন বাড়লে বা চাহিদা কমলে মাঝে মাঝে মুনাফায় টান পড়ে।

সমস্যা ও দাবি সফল ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মতে, ধাপেরহাটে হলুদের বাজারের জন্য নির্ধারিত জায়গার বেশ অভাব রয়েছে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক সময় পাইকার ও কৃষকদের বিপাকে পড়তে হয়। এছাড়া সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে কৃষকরা আরও বড় পরিসরে হলুদ চাষে উৎসাহিত হতেন।

ভ্যান চালক থেকে সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠা ভুলু ভাইয়ের এই গল্প এখন স্থানীয় তরুণদের জন্য এক নতুন আশার আলো।