বিস্ময়কর কারিগর : যার হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পায় দোতারা আর তবলা!
এই ভিডিওতে গাইবান্ধার একজন দক্ষ বাদ্যযন্ত্র কারিগরের জীবন এবং তার কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। নিচে তার বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
শুরু ও অভিজ্ঞতা:
তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বাদ্যযন্ত্র তৈরির পেশার সাথে জড়িত। প্রথমে তিনি ফার্নিচারের কাজ করতেন, কিন্তু পরে হারমোনিয়াম কারিগরকে দেখে এই কাজে অনুপ্রাণিত হন এবং ১৫ বছর সেখানে কাজ শেখেন [00:00]।
গত ৮ বছর ধরে তিনি গাইবান্ধায় নিজের দোকান পরিচালনা করছেন। তিনি হারমোনিয়াম, দোতারা, বেঞ্জু, ড্রাম এবং কাহনসহ বিভিন্ন ধরণের বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও মেরামত করেন [00:20]।
কাজের বিশেষত্ব ও মান:
তিনি সেগুন কাঠ ব্যবহার করে হারমোনিয়াম তৈরি করেন এবং একটি হারমোনিয়াম তৈরি করতে তার সময় লাগে ৬-৭ দিন [00:40]।
তার তৈরি হারমোনিয়ামের দাম শুরু হয় ১৪,০০০ টাকা থেকে, যা বাজারের তুলনায় সাশ্রয়ী। বিশেষত্ব হলো তিনি 'এক কাঠের রিডবোর্ড' ব্যবহার করেন, যার স্থায়িত্বের গ্যারান্টি তিনি আজীবনের জন্য দেন [00:51]।
ইন্ডিয়াতে যে ধরণের 'ট্যানর বেঞ্জু' তৈরি হয়, তিনি সেগুলো নিজেই তৈরি করেন এবং ৮-১০ হাজার টাকার মধ্যে সরবরাহ করেন [01:05]।
মেরামত ও সুর:
তিনি সুর ঠিক করার জন্য 'ন্যাশনাল টিউন' এবং মেশিনের সাহায্য নেন। বাদ্যযন্ত্রের টিউন নষ্ট হওয়া, বাঁশি ভাঙা বা ভেতরের বেলুর যেকোনো সমস্যা তিনি অত্যন্ত যত্ন সহকারে মেরামত করেন [01:59]।
তিনি দাবি করেন, যেকোনো কাঠের বাদ্যযন্ত্র—যা তিনি আগে কখনো দেখেননি—সেটিও তিনি মেরামত করে দিতে পারেন [01:53]।
বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চিন্তা:
ইদানীং ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ব্যবহার এবং কিছু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এই শিল্পের চাহিদা কিছুটা কমেছে [02:56]।
তিনি আফসোস করেন যে তার এই কাজ উত্তরাধিকার সূত্রে শিখে নেওয়ার মতো কেউ নেই। নতুনরা আসলেও তারা কাজের প্রতি ধৈর্যের চেয়ে টাকার প্রতি বেশি আগ্রহী থাকে [04:14]।
যোগাযোগ:
তার দোকানটি গাইবান্ধা বাস স্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে ডিসি অফিস সংলগ্ন পলাশবাড়ী সিএনজি স্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত [04:02]।
যোগাযোগ নম্বর: 01836770483 [03:55]।
ভিডিওর লিঙ্ক: https://youtu.be/oRxZrfhcYZc?si=uMAx2uBi1HwhIY8I



