খাঁটি সরিষার তেলের খোঁজে ৬৪ জেলা

ব্যাবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে রান্নায় সয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে খাঁটি সরিষার তেল। বিশেষ করে দেশি দানা থেকে তৈরি তেলের চাহিদা এখন দেশের ৬৪ জেলাতেই। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে খাঁটি সরিষার তেলের বৈশিষ্ট্য এবং একজন সফল উদ্যোক্তার ব্যবসার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

খাঁটি দেশি সরিষা চেনার উপায় উদ্যোক্তার মতে, সরাসরি দেশীয় দানা থেকে প্রস্তুত করা তেলই প্রকৃত খাঁটি সরিষার তেল। দেশি সরিষার দানাগুলো সাধারণত খুব ছোট হয় এবং হাতে নিয়ে ডললে একটি তীব্র ঝাঁঝ অনুভূত হয়। হাইব্রিড বা বিদেশি সরিষার তেলে আলাদা করে ঝাঁঝ যুক্ত করতে হলেও দেশি সরিষায় তার প্রয়োজন হয় না। এটি রান্নায় আমাদের নানি-দাদিদের আমলের সেই হারানো স্বাদ ফিরিয়ে আনে।

উৎপাদন পদ্ধতি: চাপ বনাম তাপ বাজারে দুই ধরনের পদ্ধতিতে তেল বের করা হয়—এক্সপেলার এবং কোল্ড প্রেস বা চাপের তেল। চাপের তেলে ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস প্রেস ব্যবহার করা হয়, যা তেলের গুণগত মান ধরে রাখে। অন্যদিকে, এক্সপেলার মেশিনে ২০০ থেকে ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ প্রয়োগ করা হয়, যা তেলের পুষ্টিগুণ কিছুটা নষ্ট করতে পারে। এই উদ্যোক্তা মূলত ফার্স্ট ফ্রেশ দেশি তেলটাই কাস্টমারদের জন্য প্রস্তুত করেন।

কেন এই তেলের চাহিদা বেশি? বাজারের সাধারণ সরিষার তেল রিফাইন করার ফলে অনেক সময় বোতলের নিচে তলানি জমে এবং কয়েকদিন পর বাজে গন্ধ তৈরি হয়। কিন্তু এই উদ্যোক্তার তেল রিফাইনহীন এবং প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়ায় এর স্থায়িত্ব ও স্বাদ অনেক বেশি। এছাড়া পরিমাপের ক্ষেত্রে তারা শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখেন—বোতলের ওজন বাদ দিয়ে নিট তেলের ওজন নিশ্চিত করা হয়।

স্বাস্থ্য উপকারিতা ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সয়াবিন তেল মূলত একটি কেমিক্যালযুক্ত পণ্য যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিপরীতে খাঁটি সরিষার তেল খেলে গ্যাসের সমস্যা দূর হয় এবং পেটের নানাবিধ জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শুরুতে তীব্র ঝাঁঝ অনেকের কাছে অসহনীয় মনে হলেও অভ্যস্ত হয়ে গেলে মানুষ অন্য কোনো তেল খেতে চায় না।

বাজারজাতকরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি বর্তমানে গাইবান্ধার এই উদ্যোক্তার তেল কুরিয়ারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই পৌঁছে যাচ্ছে। অনেক কাস্টমার সারা বছরের জন্য ৪০ থেকে ৫০ লিটার পর্যন্ত তেল অগ্রিম সংগ্রহ করে রাখছেন। তবে সরিষার দানার দাম বৃদ্ধির কারণে তেলের দামও বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী। ঈদের আগে সরিষার মণ ৩১০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

খাঁটি পণ্যের নিশ্চয়তা ও স্বচ্ছ ব্যবসার মাধ্যমে এই উদ্যোক্তা কেবল নিজের ভাগ্যই বদলাননি, বরং সুস্থ জীবনযাপনের এক নতুন পথ দেখাচ্ছেন