৩০ উপজেলায় শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচী: 'আতঙ্কিত হবেন না' বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ১৮টি জেলার অধীনে থাকা মোট ৩০টি উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাকওয়াত হোসেন এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, "আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে ১৮টি ডিস্ট্রিক্টের অধীনে ৩০টি উপজেলায় আমরা হামের বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। ৫টি স্পটে মন্ত্রণালয় ও সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সরাসরি উপস্থিত থাকবো এবং বাকি ২৫টি উপজেলায় সিভিল সার্জনগণ স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে উদ্বোধন করবেন।"
বয়সসীমায় পরিবর্তন প্রসঙ্গে:
আক্রান্তদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে টিকা প্রদানের বয়সসীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "আগে আমরা ৫ থেকে ১০ বছরের কথা বলেছিলাম, কিন্তু দেখা গেছে আক্রান্তদের ৮২ শতাংশই ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের শিশু। আর এই গ্রুপেই মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। তাই আমরা ফার্স্ট কনসিডারেশনে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস (৫ বছরের ১ মাস কম) বয়সীদের কাল থেকে টিকা দিচ্ছি।"
ভিটামিন-এ এবং চিকিৎসা প্রসঙ্গে:
অসুস্থ শিশুদের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, "যাদের জ্বর বা হাম হয়েছে, তাদেরকে আমরা সাথে সাথে ভিটামিন-এ খাওয়াবো। তবে মনে রাখবেন, যাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে (সুস্থ শিশু), তাদের কিন্তু ভিটামিন-এ দেওয়া হবে না। শুধু আক্রান্ত ও চিকিৎসাধীন রোগীদের এটি দেওয়া হবে।"
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান:
জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "আপনারা জাতিকে মেসেজ দিবেন- আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা করোনার মতো পরিস্থিতি বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে ভালো মোকাবিলা করেছি। আমাদের চিকিৎসকরা মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে সমানে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে ডেথ রেট কমে আসছে, আশা করি টিকাদানের মাধ্যমে আমরা পরিস্থিতি ফুল কন্ট্রোলে নিয়ে নিব।"
তিনি আরও যোগ করেন, "যেখানে জরুরি দরকার সেখানে আমরা ভেন্টিলেটর সাপ্লাই দিচ্ছি। এমনকি ভেন্টিলেটর ছাড়াও আমাদের চিকিৎসকরা কিছু নতুন মেথড ইভলভ করেছেন যা দিয়ে ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়া যায়। আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে ফাইট করছি।"
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফ এবং আইসিডিডিআর,বি-এর বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী এই টিকাদান কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশেই এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।



