প্রিয় বাইক বেচে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, মাসে দেড় লাখ টাকা আয়ে সফল উদ্যোক্তা
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ছেলেদের কাছে নিজের পছন্দের মোটরসাইকেলটি বিক্রির মতো কষ্টের কাজ খুব কমই আছে। কিন্তু স্বপ্নের নতুন ঠিকানা গড়ার তাগিদে নিজের শখের বাইক ও মোবাইল ফোন পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিলেন এক তরুণ আইটি কর্মী। স্থানীয় লোকজনের নানা কটূক্তি ও ‘পাগলামো’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া সেই উদ্যোগই আজ সফলতার মুখ দেখেছে। গাইবান্ধায় ‘ম্যাড কিচেন’ (Mad Kitchen) নামের চাইনিজ ও থাই রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করে তিনি এখন মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করছেন।
অন্যের অধীনে চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছা থেকে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নামেন এই উদ্যোক্তা। শুরুতে বন্ধুদের সাথে পার্টনারশিপে যুক্ত হলেও নানা প্রতিকূলতায় একপর্যায়ে লোন নেওয়া এবং নিজের শখের আইকিউ ফোন ও বাইক বিক্রি করে পুরো রেস্টুরেন্ট নিজের কাঁধে তুলে নেন।
ব্যবসা শুরুর দিকে আশেপাশের অনেকে বলছিলেন “দুইদিন পর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে” বা এটি একটি “পাগলামো”। তবে সব সমালোচনাকে তুচ্ছ প্রমাণ করে মাত্র ৬-৭ মাসের মধ্যে রেস্টুরেন্টটি স্থানীয় ভোজনরসিকদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
গাইবান্ধায় প্রথম তারাই জাপানিজ রামেন (Ramen), চিকেন কাতসু (Chicken Katsu) এবং বিশেষ ইন্ডিয়ান স্টাইলের দই ফুচকা পরিবেশন করছেন।
বর্তমানে রেস্টুরেন্টটিতে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার খাবার বিক্রি হয়, যাতে মাসে মোট বিক্রি দাঁড়ায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে এভারেজে ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। ব্যবসায়ের লাভ থেকেই তিনি সম্প্রতি নিজের জন্য নতুন একটি বাইক কিনতে পেরেছেন, যা তার জীবনের অন্যতম আনন্দদায়ক মুহূর্ত।
ভবিষ্যতে কম খরচে উন্নত মানের খাবার উপহার দিতে রেস্টুরেন্টটি আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এই উদ্যোক্তা। ‘সংযোগ’ মিডিয়ার ভিডিও দেখে রেস্টুরেন্টে আসা গ্রাহকদের জন্য ১৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
ঠিকানা: মাহাতাব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিপরীতে, কলেজ রোড, থানাপাড়া, গাইবান্ধা।
