হরিতকি-বহেরা-আমলকি দিয়ে অর্গানিক তেল

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চুলের খুশকি, চুল পড়া রোধ এবং অকাল পক্বতা দূর করতে প্রাকৃতিক উপাদানের গুণাগুণ অপরিসীম। এই ভাবনা থেকেই গাইবান্ধার এক কলেজ ছাত্র তৈরি করছেন শতভাগ অর্গানিক হেয়ার অয়েল। হরিতকি, বহেরা এবং আমলকির মিশ্রণে তৈরি এই তেল বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই তেল তৈরির পদ্ধতি ও তার সফলতার কাহিনী উঠে এসেছে।

উদ্যোক্তার পরিচয় ও শুরুর কথা তেলটির প্রস্তুতকারক বর্তমানে গাইবান্ধা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি তিনি কামিল মাদ্রাসায় ফাজিল তৃতীয় বর্ষেও পড়াশোনা করছেন। প্রায় এক বছর আগে পরিচিত একজনের চুলের সমস্যার সমাধানে তিনি নিজে কিছু ভেষজ উপাদান দিয়ে তেল তৈরি করে দেন। অভাবনীয় ফল পাওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে ‘অরিজিন হেয়ার বেলুনম’ (Origin Hair Belunom) নামে এটি বাজারজাত শুরু করেন।

তেল তৈরির উপাদান ও প্রক্রিয়া এই অর্গানিক তেল তৈরিতে প্রধানত ব্যবহৃত হয়:

  • হরিতকি, বহেরা ও আমলকি: এগুলো পিষে মিহি করে নেওয়া হয়।

  • জবা ফুলের পাতা, কারিপাতা ও নিম পাতা: এগুলো শুকিয়ে বা ভেজে তেলের সাথে মেশানো হয়।

  • পিওর নারিকেল তেল: শতভাগ খাঁটি নারিকেল তেলের সাথে এই ভেষজগুলো মেশানো হয়।

  • সিক্রেট আইটেম: তেলের কার্যকারিতা বাড়াতে তিনি চারটি গোপন উপাদান ব্যবহার করেন যা ব্যবসায়িক কারণে প্রকাশ করেননি।

সব উপাদান মেশানোর পর মিশ্রণটি একটানা ২৪ ঘণ্টা কড়া রোদে রাখা হয়। এটি কোনোভাবেই আগুনে জ্বাল দেওয়া হয় না, কারণ তাতে গুণগত মান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রোদে দেওয়ার পর তেলটি একটি গাঢ় লালচে বা কালো বর্ণ ধারণ করলে তা ব্যবহারের উপযোগী হয়।

কার্যকারিতা ও গ্যারান্টি উদ্যোক্তার দাবি, এই তেল নিয়মিত ব্যবহারে: ১. মাথার খুশকি সম্পূর্ণ নির্মূল হয়। ২. চুল পড়া বন্ধ হয় এবং চুলের গোড়া শক্তিশালী হয়। ৩. লালচে চুল কালচে বর্ণ ধারণ করে। তিনি তার পণ্যের গুণগত মানের ওপর ১০০% গ্যারান্টি প্রদান করেছেন ।

পুঁজি ও বাজারজাতকরণ মাত্র ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসার যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে অর্ডারের ভিত্তিতে তিনি ফ্রেশ তেল তৈরি করে কুরিয়ারের মাধ্যমে সারা দেশে পাঠান। অনেকে তার কাছ থেকে পাইকারি মূল্যে তেল নিয়ে নিজেদের লোগো ব্যবহার করে পুনরায় বিক্রি (Resell) করছেন।

যোগাযোগ ও প্রাপ্তিস্থান ফেসবুক পেজ ‘হলুদ ডেকো’ (Holud Deco)-তে মেসেজ দিয়ে অথবা সরাসরি গাইবান্ধা সদরে এসে এই তেল সংগ্রহ করা যাবে। সরাসরি নিতে চাইলে এক-দুই দিন আগে অর্ডার করার পরামর্শ দিয়েছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

প্রথাগত চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মেধা ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার এই প্রচেষ্টা স্থানীয় তরুণদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।