আধুনিক ইনকিউবেটরে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফুটিয়ে খামারিদের নতুন দিশা

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকৃতির নিয়মে এতদিন মুরগির তা দেওয়ার মাধ্যমে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো হলেও বর্তমান প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেই চিত্র পাল্টে গেছে। আধুনিক ইনকিউবেটর মেশিনের মাধ্যমে একসঙ্গে শত শত ডিম ফুটিয়ে সফলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন এক উদ্যোক্তা। “একটি ডিম, একটি জীবন”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগে খামারিরা তাদের ডিম ফুটিয়ে আধুনিক ও লাভজনক পোলট্রি ব্যবসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

ইনকিউবেটর মেশিনে সফলভাবে বাচ্চা ফোটার নেপথ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ। মেশিনের তাপমাত্রা সবসময় ৩৭° সেলসিয়াসের কাছাকাছি রাখা হয় এবং স্বাভাবিক সময়ে আর্দ্রতা ৬০ থাকলেও হ্যাচিংয়ের সময় তা বাড়িয়ে ৭৫ করা হয়। মুরগির ক্ষেত্রে ২১ দিন, হাঁসের জন্য ২৮ দিন এবং চীনা হাঁসের জন্য ৩৬ দিনে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়। দেশি মুরগি, টাইগার, মিশরি কিংবা ফাওমি—সব ধরনের জাতের জন্যই এই আধুনিক প্রযুক্তি সমানভাবে কার্যকর। খামারিদের মতে, অল্প কয়েকটি ডিমের পরিবর্তে একসঙ্গে বেশি ডিম ইনকিউবেটরে দিলে বিদ্যুৎ খরচও সাশ্রয় হয়। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকায় দেশি জাতের ডিম ফোটানোর চাহিদা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি।

প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পোলট্রি ও খামার ব্যবস্থাপনায় এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।