ছাদে দেশি মুরগি লালনপালন করে নিরাপদ আমিষ ও সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: খাবারের ভেজাল আর অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ছাদ কৃষির এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এক উদ্যোমী তরুণ। ঢাকায় চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরে বাবার অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে নিজ বাড়ির ছাদে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে দেশি মুরগি পালন শুরু করেন তিনি। আজ তার ছাদের এই ছোট খামার কেবল পরিবারের পুষ্টির চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বরং আশপাশের মানুষের কাছে নিরাপদ ও খাঁটি দেশি মুরগি ও ডিম সরবরাহের এক বিশ্বস্ত ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
উদ্যোক্তা জানান, ২০১৭ সালে ঢাকায় চার বছরের চাকরি ছেড়ে বাড়িতে আসার পর অসুস্থ বাবার জন্য খাঁটি খাবারের খোঁজে এই উদ্যোগের বীজ রোপিত হয়। শুরুর দিকে কিছু প্রতিকূলতা ও মুরগি মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও অভিজ্ঞদের পরামর্শে অপ্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন বন্ধ করার পর থেকে খামার সম্পূর্ণ রোগমুক্ত থাকে। ১০ শতকের মতো ছাদের ছোট্ট পরিসরে সুদৃশ্য ঘর ও খাঁচা তৈরি করে সেখানে নিয়মিত দেশি মুরগি লালনপালন করা হচ্ছে। পরিবারের প্রতিদিনের আমিষের চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত মুরগি ও ডিম বিক্রি করে প্রতি মাসে আর্থিক লাভও আসছে। প্রতিবেশীরাও তার এই ভেজালমুক্ত উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং নিয়মিত খাঁটি দেশি মুরগির পোনা ও ডিম সংগ্রহ করছেন।
ছাদের স্বল্প পরিসরে এমন পরিকল্পিত ও পুষ্টিসচেতন উদ্যোগ নগর ও গ্রামীণ জনপদের মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং আত্মনির্ভরশীলতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।