ময়লা-আবর্জনাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ ও জৈব সার উৎপাদন

উৎপাদন

গাইবান্ধার একদল স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীর অসাধারণ এক উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছে কীভাবে দৈনন্দিন জীবনের পচনশীল ও অপচনশীল ময়লা-আবর্জনাকে কাজে লাগিয়ে একই সাথে বিদ্যুৎ ও জৈব সার উৎপাদন করা সম্ভব।

নিচে তাদের উদ্ভাবিত এই ফর্মুলা বা প্রকল্পের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:

১. অপচনশীল বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও বায়ু শোধন

শিক্ষার্থীরা প্লাস্টিক বা পলিব্যাথিনের মতো অপচনশীল বর্জ্যকে পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতি দেখিয়েছে।

  • বিদ্যুৎ উৎপাদন: বর্জ্য পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট তাপকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে শোষন করে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। এখান থেকে ৩০০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে স্টোর করা সম্ভব, যা পরবর্তীতে ২২০ ভোল্টে রূপান্তর করে বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা যাবে।

  • ধোঁয়া শোধন: বর্জ্য পোড়ালে যেন বায়ু দূষণ না হয়, সেজন্য তারা একটি বিশেষ ফিল্টার ব্যবহার করেছে। অ্যাক্টিভ চারকোল এবং সোডিয়ামের স্তরের মাধ্যমে ধোঁয়া থেকে কার্বন আলাদা করে বিশুদ্ধ বাতাস প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

২. পচনশীল বর্জ্য থেকে গ্যাস ও টারবাইন বিদ্যুৎ

শাকসবজির খোসা বা খাবারের অবশিষ্টাংশের মতো পচনশীল বর্জ্যকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পচিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশল উদ্ভাবন করেছে তারা।

  • মিথেন গ্যাস: বর্জ্য পচানোর ফলে উৎপন্ন মিথেন গ্যাসকে কম্প্রেসারের মাধ্যমে উচ্চ চাপে টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

  • সার উৎপাদন: পচন প্রক্রিয়ার পর অবশিষ্ট শক্ত অংশ থেকে উচ্চমানের জৈব সার তৈরি হয়, যা কৃষি কাজে ব্যবহারের উপযোগী।

  • পানি শোধন: বর্জ্য থেকে নির্গত তরল বা লিকুইডকেও ফিল্টার করে বিশুদ্ধ করার পর তা নদীতে ফেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

৩. প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও সম্ভাবনা

  • পরিবেশ রক্ষা: বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ময়লা উৎপাদিত হয়। এই ময়লাগুলো সরাসরি পরিবেশে না ফেলে আধুনিক এই পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করলে মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ রোধ সম্ভব।

  • স্বনির্ভরতা: একই সাথে বিদ্যুৎ ও সারের চাহিদা মিটিয়ে এটি দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

  • জার্মান মডেলের অনুপ্রেরণা: জার্মানিতে অপচনশীল বর্জ্য নিয়ে এ ধরনের কাজ হলেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পচনশীল বর্জ্যকেও এই মডেলে যুক্ত করে একে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

শিক্ষার্থীদের এই প্রকল্পটি ইতিমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বিজয়ী হয়ে জেলা পর্যায়ে প্রদর্শিত হয়েছে। তারা মনে করে, সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই মডেলটি বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করে দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।