দিনেই ৩০ হাজার টাকার ফুল বিক্রির
কৃষি উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
শখের বসে ফুল চাষ শুরু করলেও এখন তা লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে গাইবান্ধার এক উদ্যোক্তার জন্য। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফুলের ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলেও নিজের বাগানের ফুল দিয়ে তিনি এখন বাজার মাতাচ্ছেন। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই সফল ফুল চাষির গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যবসা থেকে চাষে পদার্পণ উদ্যোক্তা ২০০১ সাল থেকে ফুলের ব্যবসা করছেন। শুরুতে তিনি যশোর থেকে ফুল কিনে এনে নিজের দোকানে বিক্রি করতেন। কিন্তু অন্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং মুনাফা বাড়াতে তিনি নিজেই চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে মাত্র ১৫ শতাংশ জমিতে ৩০০০ গাঁদা ফুলের চারা দিয়ে চাষ শুরু করলেও বর্তমানে প্রায় ৩ বিঘা জমিতে তার ফুলের বাগান বিস্তৃত। চারাগুলো তিনি যশোর থেকে সংগ্রহ করেন, যা মূলত ভারত থেকে আসা উন্নত জাতের।
অবিশ্বাস্য আয় ও রেকর্ড ধান বা অন্যান্য ফসলের চেয়ে ফুল চাষে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি বলে দাবি করেন এই চাষি। তার ব্যবসার কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য:
-
গত ঈদের সময় মাত্র ২৫ শতাংশ জমি থেকে ৫ দিনে তিনি ৭৫ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছেন।
-
কোনো কোনো বিশেষ দিনে (যেমন বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবস) এক দিনেই তার ৩০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে।
-
বর্তমানে তার বাগান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার ফুল তোলা সম্ভব।
বাজার ও চাহিদা নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ফুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। বিশেষ করে ২৬শে মার্চ, দুই ঈদ এবং শীতকালীন অনুষ্ঠানগুলোতে ফুলের দাম ও চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তিনি নিজের দোকানের চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দোকানদারদের কাছেও পাইকারি দরে ফুল সরবরাহ করেন।
পরিচর্যা ও কারিগরি জ্ঞান চাষি নিজেই এখন অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। কখন সেচ দিতে হবে বা কোন ওষুধ ব্যবহার করতে হবে, তা তিনি নিজেই তদারকি করেন। বাগানে নিয়মিত লোক কাজ করলেও তিনি প্রতিদিন অন্তত একবার বাগান পরিদর্শন করেন। তার মতে, ওষুধের মাত্রায় সামান্য ভুল হলে পুরো বাগান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই সতর্ক থাকতে হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বর্তমানে গাঁদা এবং চন্দ্রমল্লিকা চাষ করলেও তার স্বপ্ন অনেক বড়। ভবিষ্যতে নিজস্ব উঁচু জমি কিনে সেখানে গোলাপসহ সব ধরণের উন্নত মানের ফুল চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ভালো বাজার দর পাওয়া গেলে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
গাইবান্ধার এই উদ্যোক্তার সফলতা এখন স্থানীয় অনেক বেকার তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে



