হোয়াইট স্টোন ফুলকপিতে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে
কৃষি
নিজস্ব প্রতিবেদক: কম খরচে অধিক লাভ এবং পরিমিত সার-কীটনাশক ব্যবহারে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে এআর মালিক সিডসের ‘হোয়াইট স্টোন’ জাতের ফুলকপি। মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ দিনে ফসল ঘরে তোলা, শতকে আড়াই থেকে তিন মণ ফলন এবং বাজারে দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকার গুণাবলীতে এই ফুলকপি চাষ করে তিন গুণ পর্যন্ত লাভ করছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কৃষকরা।
স্থানীয় এক কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৪০ শতক জমিতে হোয়াইট স্টোন জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। ফসল তোলা শুরুর প্রথম ১০-১২ দিনেই তিনি প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ ফুলকপি বাজারে বিক্রি করেছেন। প্রতি মণ ফুলকপি ১,৮০০ থেকে ১,৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ জাতের প্রতিটি ফুলকপির গড় ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি। ফুলকপিগুলো অত্যন্ত শক্ত ও নিবিড় হওয়ায় পরিবহনকালে নষ্ট হয় না, ফলে বাজারে পাইকাররা সাগ্রহে এগুলো কিনে নেন।
সাদুল্লাপুর উপজেলার কৃষি উন্নয়ন ও মাটি পরীক্ষা প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উপজেলার ১,৩০১ জন চাষীর মধ্যে প্রায় ৭০০ জন কৃষককে এই জাতের ফুলকপির বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রজেক্টের আওতায় জমির মাটি ও পানি পরীক্ষা করে দেওয়া রিপোর্ট কার্ড অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। এছাড়া ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিকভাবে আঠালো ফাঁদ বা স্টিকার ব্যবহার করে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ফুলকপি উৎপাদন করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি অনুসরণের ফলে চাষীদের উৎপাদন খরচ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে এবং বাজারের চাহিদা ভালো থাকায় ফুলকপি চাষ করে এক মাসেই লাখপতি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
