তরমুজ চাষিদের কান্নায় ভারী হচ্ছে আকাশ

কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রচণ্ড গরমের সস্তির ফল তরমুজ নিয়ে এবার গাইবান্ধার চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। অনুকূল আবহাওয়ার অভাব, সারের চড়া দাম এবং বাজারে ন্যায্য মূল্যের অভাবে লোকসানের মুখে পড়েছেন চরাঞ্চলের তরমুজ চাষিরা। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তরমুজ চাষের বর্তমান সংকট ও কৃষকদের হাহাকারের চিত্র ফুটে উঠেছে।

আকাশের দুর্যোগ ও ফসলের ক্ষতি চাষিদের মতে, এবার শিলাবৃষ্টি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে তরমুজ খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর ওপর ‘শুলশুলি’ বা কারেন্ট পোকার আক্রমণ এবং ‘ব্লাড’ নামক রোগের কারণে অনেক খেত পুড়ে গেছে। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও প্রতিকার না করতে পারায় ফলন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। যেখানে একটি তরমুজ ৮ থেকে ১২ কেজি হওয়ার কথা, সেখানে এবার ফলন হয়েছে মাত্র ১ থেকে ৩ কেজি।

খরচ ও বাজারের অসমীকরণ ১৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করতে একজন কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তিনি মাত্র ১ লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছেন। অর্থাৎ চার ভাগই লস। বাজারে প্রতি মণ তরমুজ ৪৪০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন ও পরিবহন খরচের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। চাষিরা জানান, সারের চড়া দাম এবং তেলের সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

মিষ্টি তরমুজ ও গুণগত মান বাজারে অনেক সময় মরা গাছের বা বন্যায় প্লাবিত খেতের তরমুজ বিক্রি হয়, যা মিষ্টি হয় না। তবে এই উদ্যোক্তা জানান, সতেজ গাছের তরমুজ সবসময় সুস্বাদু ও মিষ্টি হয়। তিনি মূলত ‘বাংলালিংক হাইব্রিড’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এছাড়া কালো রঙের ‘আম তরমুজ’ খেতে বেশি সুস্বাদু হলেও বাজারে এর চাহিদা কম থাকায় কৃষকরা তা চাষ করতে দ্বিধাবোধ করেন।

বিপণন ও পরিবহন গাইবান্ধার এই খেতের তরমুজ সাধারণত ঢাকা, লালমনিরহাট, রংপুর এবং বগুড়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু পরিবহন খরচ আকাশচুম্বী হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা কম থাকায় কৃষকরা তাদের পুঁজি হারাচ্ছেন। অনেক কৃষক এবার খেত ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছেন।

কৃষকের আকুতি চরাঞ্চলের কৃষকরা কেবল প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে এই চাষাবাদ করেন। যদি গরমের পরিমাণ না বাড়ে এবং বাজার চাঙ্গা না হয়, তবে এই মৌসুমে তাদের ঋণের বোঝা আরও ভারী হবে। কৃষকরা আশা করছেন, বড় পাইকার বা ব্যাপারীরা সরাসরি খেত থেকে তরমুজ সংগ্রহ করলে তারা কিছুটা আলোর মুখ দেখতে পারেন।