ফুটপাতে ঘুমানো সেই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

জীবনযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবনযুদ্ধে হার না মানার এক অনন্য দৃষ্টান্ত গাইবান্ধার উদ্যোক্তা রাজন। একসময় অভাবের তাড়নায় অন্যের বাড়ি থেকে ভাতের মাড় চেয়ে খাওয়া এবং রাতের বেলা দোকানের বারান্দায় ঘুমানো সেই রাজন আজ নিজের মেধা, পরিশ্রম ও সততা দিয়ে এলাকায় একজন সফল ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। মাত্র ৯০০ টাকা মূলধনে শুরু করা ‘মুরগি মাখা’ ঝালমুড়ি বেঁচে আজ তিনি সাড়ে সাত শতক জমির মালিক।

রাজনের এই অনন্য মাখা খাবারের মূল আকর্ষণ হলো—ঘুগনি, বুট, ডিম এবং মুরগির মাংস, গিলা-কলিজা ও মাথার সংমিশ্রণে তৈরি বিশেষ মুড়ি মাখা। ৫০ টাকায় ১ পিস মাংসসহ ভরপুর ঝালমুড়ি মাখা এবং ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় ডিম মাখা পাওয়া যায় তার দোকানে। দূর-দূরান্তের তরুণ ও ভোজনরসিকরা গাইবান্ধা বড় মসজিদের পাশে হাজী ম্যানশনের সামনে রাজনের দোকানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভিড় জমায়।

নিজের অতীত স্মৃতিচারণ করে রাজন জানান, হোটেলে কাজ করার সময় ঘুমানোর জায়গা পর্যন্ত ছিল না। গরমের দিনে দোকানের বারান্দায় ময়দার বস্তা গায়ে দিয়ে ঘুমাতেন। পরবর্তী সময়ে মা সমিতি থেকে ৩,০০০ টাকা ঋণ নিলে সেখান থেকে পাওয়া মাত্র ৯০০ টাকা দিয়ে এই ঝালমুড়ি মাখার ব্যবসা শুরু করেন তিনি। খাবারের আসল স্বাদ তৈরি করেন তার স্ত্রী, যার রেসিপি ও মসলা মাখানোর কারুকাজেই আজ রাজনের এই সুনাম।

মেহনতি এই উদ্যোক্তা প্রতিদিনের আয় থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে সাত শতক জায়গা কিনেছেন এবং ছেলে ও মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য সমভাগে ভাগ করে টিনের ঘর তুলে দিয়েছেন।

সাফল্য এলেও রাজনের মনে রয়ে গেছে এক গভীর কষ্ট। তার একমাত্র ছেলে বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। ঢাকা পিজি হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসার জন্য ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল, যা জোগাড় করা রাজনের পক্ষে সম্ভব হয়নি। টাকার অভাবে ছেলেকে একটি হিয়ারিং এইড কিনে দিতে না পারার আক্ষেপ আজও তাড়িয়ে বেড়ায় এই সংগ্রামী পিতাকে। তবুও স্থানীয়দের ভালোবাসা ও সহানুভূতি নিয়ে পথ চলেছেন ভিন্ন স্বাদের খাবারের রূপকার রাজন।