ঝিনুক পুড়িয়ে সাদা সোনা তৈরির কঠিন লড়াই

জীবনযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রামীণ লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে কত শত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক প্রাচীন পেশা হারিয়ে গেলেও উত্তরবঙ্গের কোনো কোনো জনপদে আজও বংশপরম্পরায় টিকে রয়েছে ঝিনুক বা শিপি পুড়িয়ে চুন তৈরির পেশা। স্থানীয়ভাবে যাকে ‘সাদা সোনা’ তৈরির যজ্ঞ বলা চলে, সেই চুন তৈরির সাথে জড়িত মানুষের জীবনসংগ্রাম এক করুণ অথচ অদম্য বাস্তবতার গল্প ফুটিয়ে তোলে।

গ্রামের পর গ্রাম মানুষ বাপ-দাদার আমল থেকে এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন। নদী বা জলাশয়ের ধার থেকে সংগৃহীত শিপি বা ঝিনুক রোদে শুকিয়ে, খড়ির আগুনে পুড়িয়ে এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মে পানি মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই চুন, যা মূলত পান খাওয়ার অনুষঙ্গ হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়। এক মণ শিপি পুড়লে প্রায় অর্ধেক পরিমাণ চুন পাওয়া যায়। তবে এই কাজের পেছনের গল্পটি বেশ কণ্টকাকীর্ণ। আগুনের তীব্র তাপ, ধোঁয়া এবং হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পাশাপাশি পুঁজির স্বল্পতা ও এনজিওর ঋণের বোঝায় জর্জরিত এখানকার কারিগররা। পান বিক্রি বা মৌসুমের ওপর নির্ভর করায় বিশেষ সময়ে তাদের ব্যবসা অনেকটাই মন্দা থাকে। সমাজে পেশাটি নিয়ে নানা সামাজিক কটূক্তি বা তাচ্ছিল্য থাকলেও পরিবারের মুখে অন্ন জোগাতে সততার সাথে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। উদ্যোক্তারা জানান, সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় তারা চান না নতুন প্রজন্ম এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় আসুক, তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে এই কুটির শিল্প নতুন জীবন পেতে পারত।

কষ্ট আর ঘামে গড়া এই ঐতিহ্যবাহী চুন শিল্প আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতির অবহেলিত অথচ শ্রমনিষ্ঠ এক অনন্য অধ্যায়।