সবাই কেনে মাছ, হরিশ খোঁজেন আঁশ
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: মাছ কাটার পর সাধারণত যে আঁশ আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়, তাতেই অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন হরিশ চন্দ্র। যেখানে সাধারণ মানুষ বাজারে গিয়ে তাজা মাছ কেনেন, সেখানে হরিশ চন্দ্রের চোখ থাকে মাছের সেই ফেলনা আঁশের ওপর। ফেলনা জিনিস কুড়িয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে তা বিক্রি করে তিনি যেমন অতিরিক্ত আয় করছেন, তেমনি দেশের পরিবেশ রক্ষায়ও রাখছেন অবদান।
মাছ কাটার পেশায় নিয়োজিত হরিশ চন্দ্র জানান, আগে অন্য দশজনের মতো তিনিও মাছ কাটার পর আঁশগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিতেন,। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারেন, এই ফেলনা আঁশ বিদেশে রপ্তানি হয় এবং তা দিয়ে ক্যাপসুলের কাভারসহ বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী তৈরি হয়। এরপর থেকেই সিদ্ধান্ত নেন আর আঁশ ফেলবেন না।
প্রতিদিন বাজারে মাছ কাটার পর জমাকৃত আঁশগুলো আলাদা পাত্রে জমিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। এরপর বাড়িতে টিউবওয়েল বা মটরের পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকাতে দেন। শুকাতে গিয়ে যাতে মাছি বা পোকা-মাকড় না বসে এবং পরিবেশ দুর্গন্ধমুক্ত থাকে, সেজন্য মশারি ও নেট দিয়ে বিশেষ টং তৈরি করেছেন তিনি,।
গ্রামের বাজারে অনেকে নিজেরা বাড়িতে গিয়ে মাছ কাটেন বলে প্রতিদিন মাত্র ১ থেকে ২ কেজি আঁশ জমা হয়,। তবুও ধীরে ধীরে জমানো সেই আঁশ শুকিয়ে পাইকারদের কাছে ভালো দামে বিক্রি করছেন তিনি,। প্রথম চালানেই ১৫-১৬ মণ শুকনো আঁশ বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা ঘরে তোলেন তিনি; একবার এক চালানেই ২০ হাজার টাকার বেশি আয় হয়েছিল তার,।
হরিশ চন্দ্রের এই উদ্যোগ দেখে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এসকেএস (SKS) ফাউন্ডেশন নামের একটি উন্নয়ন সংস্থা,। মাছের আঁশ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে শুকানোর জন্য তারা হরিশকে প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা ও নেট-মশারি সামগ্রী প্রদান করেছে,।
অভাবের সংসারে মাছ কাটার আয়ের পাশাপাশি ফেলনা আঁশ বিক্রি থেকে আসা এই বাড়তি টাকা বিপদের দিনে বড় সম্বল হিসেবে কাজ করে বলে জানান তিনি,। ভবিষ্যতে কাজের পরিধি বাড়িয়ে সরাসরি ডিলারদের মাধ্যমে বড় পরিসরে আঁশ রপ্তানি ও ব্যবসার স্বপ্ন দেখছেন এই উদ্যোগী মানুষটি।
