নিরক্ষর হয়েও জীবন জয়ের অনন্য গল্প
জীবনযুদ্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক: লেখাপড়া জানেন না, মেমোর কাস্টমার তালিকা বা হিসাব লিখতে গেলে কাস্টমারকেই বলতে হয়—‘ভাই একটু লিখে দেন, আমি নামটা লিখে দিই’। অথচ নিজের সততা, কাজের প্রতি একাগ্রতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি আজ একটি স্বনামধন্য সাইকেল শোরুমের ম্যানেজার! দিনে মাত্র ৩ টাকা মজুরির মেকানিক থেকে ম্যানেজার পদে আসীন হওয়া এই অনুপ্রেরণাদায়ক জীবনের নাম—এক বিশ্বস্ত সাইকেল মেকানিক।
ছোটবেলায় অভাবের সংসারে বাবা কাঠমিস্ত্রির স্বল্প আয়ে তিন বোন ও এক ভাইয়ের অন্নসংস্থান করাই কঠিন ছিল। ফলে স্কুলের মুখ দেখা হয়নি তার। বেঁচে থাকার তাগিদে শিশু বয়সেই মেকানিক ওস্তাদ আফসার মেকারের দোকানে কাজে যোগ দেন, যেখানে দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ৩ টাকা,। সেই ৩ টাকার ১ টাকা যাতায়াতে, ১ টাকা খাবারে খরচ করে বাকি ১ টাকা ভবিষ্যতের জন্য জমা করতেন। এমন দিনও গেছে যে একবেলা পান্তা ভাত বা আট আনা দিয়ে মাত্র একটি রুটি খেয়ে পুরো দিন কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি।
পরবর্তীতে কাজের দক্ষতা দেখে ‘বেক সাইকেল স্টোর’ নামক শোরুমে নতুন সাইকেল সেটিংয়ের কাজে যুক্ত হন। সেখানে দীর্ঘ ১৮ বছর একই মালিকের অধীনে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন,। সময়ের পরিক্রমায় কেবল অভিজ্ঞতা ও বিশ্বস্ততার ওপর ভর করে মেকানিক থেকে শোরুমের ম্যানেজার পদে উন্নীত হয়েছেন তিনি,।
পড়াশোনা না জানা সত্ত্বেও একজন নিরক্ষর মানুষ কীভাবে শোরুমের ম্যানেজারগিরি সামলাচ্ছেন—জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, “কাস্টমার এলে হিসাবটা কাস্টমারকে দিয়েই লিখিয়ে নিই, তারপর নিচে আমার নামটা সই করে দিই,।”
বর্তমানে ১৫,০০০ টাকা বেতনে পরিবার নিয়ে বেশ সুখে আছেন তিনি। তিনি মনে করেন, বড় ডিগ্রি না থাকলেও কাজের প্রতি সততা ও মা-বাবার দোয়া থাকলে জীবনে সফল হওয়া সম্ভব,। ভবিষ্যৎ স্বপ্ন—ছেলে যেন একদিন নিজের একটি সাইকেলের শোরুম দিতে পারে।
