বাড়িতেই তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের মানসম্মত পশুখাদ্য
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজারের বাণিজ্যিক পশুখাদ্য বা ফিডের উচ্চমূল্যের কারণে যখন পোল্ট্রি ও ডেইরি খামারিদের লোকসান গুণতে হচ্ছে, ঠিক তখনই খামারিদের খরচ কমাতে এক অভিনব ও লাভজনক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে গাইবান্ধায়। মেশিনের সাহায্যে নিজ বাড়িতেই প্রস্তুত করা হচ্ছে গাভী ও মাছের উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন দানাদার ফিড।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নে চালু হওয়া এই ফিড প্রসেসিং সেন্টারে খামারিদের চাহিদামতো সাশ্রয়ী মূল্যে ভেজালমুক্ত পশুখাদ্য বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে,।
উদ্যোক্তা জানান, গুণগত মান ঠিক রেখে ১০০ কেজি গাভীর ফিড তৈরি করতে নির্দিষ্ট কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ৫০ কেজি গমের ভুষি, ২০ কেজি সয়াবিন, ১১ কেজি ভুট্টার গুঁড়া, ১০ কেজি চালের কুঁড়া, ২.৫ কেজি চিটাগুড় বা চিনির গুঁড়া, ২ কেজি লাইমস্টোন, ১ কেজি ডিবি পাউডার এবং হাফ কেজি খাবার সোডা,।
খাদ্য তৈরির ধাপে প্রথমে সব শুকনা উপাদান পালভাইজার মেশিনে গুঁড়া করে নেওয়া হয়। এরপর তা মিক্সার মেশিনে নিয়ে প্রয়োজনমতো পানি ও চিটাগুড়ের সংমিশ্রণ তৈরি করা হয়,। মিক্সড উপাদানগুলো ফিড মেশিনে দেওয়া মাত্রই সেখান থেকে পশুখাদ্যের সুনির্দিষ্ট দানা বা প্রসেসড ফিড তৈরি হয়ে বের হয়ে আসে। সর্বশেষে ফ্যান বা রোদের বাতাসে শুকিয়ে তা ব্যবহারের উপযোগী করা হয়।
রেডিমেড ফিড বিক্রির পাশাপাশি খামারিরা যেন নিজেদের সংগ্রহ করা ভুট্টা, ভুষি বা খৈল নিয়ে এসে নিজ পছন্দ অনুযায়ী ফিড তৈরি করতে পারেন, সেই সুযোগও রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কেজি প্রতি মাত্র ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়।
কম খরচে সুষম পশুখাদ্য তৈরি করার এই প্রযুক্তিগত সুবিধা হাতের কাছে পাওয়ায় গাইবান্ধার কুপতলা এলাকার খামারিরা বেশ উপকৃত হচ্ছেন এবং পশুপালনে বাড়তি লাভের সুযোগ পাচ্ছেন,।
