মাত্র ৪০০ গ্রাম পোনা থেকে ৬ মণ পাবদা ব্যবসায়িক চমক
ব্যবসা
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবদা মাছ চাষে অন্য অনেকে লস খেয়ে পিছিয়ে গেলেও অদম্য আত্মবিশ্বাস ও বৈজ্ঞানিক পরিচর্যাকে কাজে লাগিয়ে চমক দেখিয়েছেন উদ্যমী মৎস্য চাষী হোসাইন। মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম রেণুপোনা ছেড়ে কয়েক মাসের ব্যবধানে পুকুরে প্রায় ৬ মণ পাবদা মাছের উৎপাদন নিশ্চিত করে ব্যাপক সাফল্যের মুখ দেখছেন তিনি।
২০২০ সাল থেকে মৎস্য খাতের সাথে যুক্ত হোসাইন জানান, তিনি চিরাচরিত মাছ চাষের বাইরে গিয়ে লাভজনক কিছু করার পরিকল্পনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এসকেএস (SKS) ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ইউসুফ ভাইয়ের পরামর্শ ও আর্থিক সহযোগিতায় তিনি পাবদা মাছ চাষে নামেন।
নিজের ৫৫ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ১১ হাজার পাবদা মাছের পোনা ছাড়েন, যার মোট ওজন ছিল মাত্র ৩-৪ শত গ্রাম,। সঠিকভাবে পুকুর শুকিয়ে, ট্র্যাক্টর দিয়ে চাষ ও চুন প্রয়োগ করে পানি দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি এই পোনা মোচন করেন।
হোসাইন জানান, পাবদা মাছের বৈশিষ্ট্য হলো এটি দিনের আলোতে খাবার গ্রহণ করে না। তাই প্রতিদিন রাতের আঁধারে নিবিড় পরিচর্যায় মাছকে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। এছাড়া পুকুরের জলজ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক আয় সর্বোচ্চ করতে তিনি সমন্বিত বা বহুতল পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন। পুকুরের তলদেশে পাবদা এবং ওপরের স্তরে সিলভার কার্প ও ব্রিগেড মাছ প্রতিপালন করছেন তিনি।
বর্তমানে তার পুকুরে প্রায় ৬ মণ পাবদা মাছ মজুত রয়েছে। প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ২৪টি মাছ উঠলেই তিনি ঐতিহ্যবাহী দাঁড়িয়াপুর হাটের আড়তে তা সরবরাহ করেন। বাজারে প্রতি কেজি পাবদা মাছ ২৩০ থেকে ২৬০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মাছের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ,।
প্রথমবারেই অভূতপূর্ব সাফল্য পাওয়ায় আগামীতে নিজের অন্যান্য পুকুরেও সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় বড় পরিসরে পাবদা ও শিং মাছ চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
