হারিয়ে যেতে বসা পেশার এক যোদ্ধা কাঁচি শান দেওয়া এক কারিগরের জীবনগল্প

ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে যখন সবকিছু হাতের মুঠোয়, তখন হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার অনেক সনাতন পেশা। এমনই এক পেশার মানুষ তিনি, যিনি আজও পাথর ঘুরিয়ে কাঁচি বা বঁটি শান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। গাইবান্ধার এই কারিগরের গল্প কেবল শান দেওয়ার নয়, বরং টিকে থাকার এক অদম্য লড়াইয়ের।

ছোটবেলায় পিতৃহারা হয়ে পরিবারের হাল ধরতে হয়েছিল তাকে। অভাবের তাড়নায় স্কুলজীবনের ইতি টেনে বেছে নিতে হয়েছিল পাথর আর লোহা ঘষার এই জীবন। তিনি জানান, আগে কাজের চাপ বেশি থাকলেও এখন দিন বদলেছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মোটরচালিত শান দেওয়ার মেশিন আসায় তার মতো সনাতন পদ্ধতিতে কাজ করা কারিগররা এখন অবহেলার শিকার। তবুও প্রতিদিন রোদে পুড়ে, হাতে ব্যথা সহ্য করে তিনি তার ঐতিহ্যবাহী কাজটুকু ধরে রেখেছেন।

তার জীবনে কোনো বিলাসিতা নেই, নেই ভবিষ্যতের বড় কোনো পরিকল্পনা। শুধু বেঁচে থাকার লড়াইয়ে প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে অপেক্ষা করেন, কোনো গ্রাহক হয়তো আসবে শান দিতে। যান্ত্রিক শহরের চাকচিক্য থেকে দূরে পড়ে থাকা এই কারিগরের কথা হয়তো অনেকেরই অজানা। কিন্তু তার নিপুণ হাতে ধার দেওয়া প্রতিটি কাঁচি যেন তার জীবনের এক একটি সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন করে। এই অবহেলিত পেশাজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রয়োজন সরকারি ও সামাজিক সচেতনতা।