৬০০ টাকার পুঁজি ভাগ্য বদলালো গৃহবধূ রুপার !

শখের বসে শেখা কাজ যে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তার অনন্য এক উদাহরণ গাইবান্ধার তরুণী রুপা। মাত্র ৬০০ টাকা দিয়ে শুরু করা সেই শখের ব্যবসা আজ তাকে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। স্বামী আর শাশুড়ির অকুন্ঠ সমর্থনে নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে ঘর থেকেই জুয়েলারি ব্যবসায় বাজিমাত করছেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা

শখের বসে শেখা কাজ যে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তার অনন্য এক উদাহরণ গাইবান্ধার তরুণী রুপা। মাত্র ৬০০ টাকা দিয়ে শুরু করা সেই শখের ব্যবসা আজ তাকে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। স্বামী আর শাশুড়ির অকুন্ঠ সমর্থনে নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে ঘর থেকেই জুয়েলারি ব্যবসায় বাজিমাত করছেন তিনি।

যেভাবে শুরু

রুপার এই পথচলা শুরু হয়েছিল আজ থেকে কিছুদিন আগে। ইন্টার লাইফ থেকেই গয়নাগাটির প্রতি তার অন্যরকম টান ছিল। জুয়েলারি কিনলে তিনি খুব কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করতেন সেগুলো কীভাবে বানানো হয়েছে। নিজের জমানো মাত্র ৬০০ টাকা দিয়ে প্রথম কাঁচামাল কিনে শুরু করেন গয়না বানানো। 

পরিবারের নীরব ও সরব সমর্থন

রুপার বাবা পড়াশোনার ব্যাপারে বেশ কড়া ছিলেন, তাই অনেকটা লুকিয়েই শুরু করেছিলেন এই কাজ। তবে তার এই যাত্রায় ছায়ার মতো পাশে ছিলেন তার স্বামী ও শাশুড়ি। রুপা বলেন:

"আমি যখনই কোনো জুয়েলারি বানাই, শাশুড়িকে পড়িয়ে দেখি কেমন লাগছে। তিনি ভুল ধরিয়ে দেন, পরামর্শ দেন। এমনকি আমার হাজবেন্ডও ঝুমকার ডিজাইন বা কালার কম্বিনেশনে আমাকে আইডিয়া দিয়ে হেল্প করে।" 

ইউনিক ডিজাইনের কারিগর

রুপার তৈরি গয়নার বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ইউনিক ডিজাইন। তিনি বাজার থেকে বিভিন্ন কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিজের মনের মতো করে একেকটি ডিজাইন তৈরি করেন। তার পেজের সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে হাতে তৈরি লং ইয়ারিং এবং ঝুমকা। প্রতিটি পণ্য তৈরিতে তিনি সর্বোচ্চ সময় এবং মেধা ব্যয় করেন যাতে কাস্টমার সন্তুষ্ট থাকে। 

পড়াশোনা ও ব্যবসার ব্যালেন্স

রুপা মনে করেন, কেবল ব্যবসার পেছনে পড়ে না থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল কিছু করা সম্ভব। তিনি নিজে সবকিছু ব্যালেন্স করেই এগিয়ে যাচ্ছেন। তার মতে, নিজের ইচ্ছা শক্তি আর পরিবারের সাপোর্ট থাকলে ঘর থেকেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। 

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও যোগাযোগ

রুপা চান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ট্রেন্ডি এবং মানসম্মত জুয়েলারি মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে। বর্তমানে ‘মেটাল জুয়েলারি বাই রুপ’ (Metal Jewellery by Rup) নামক ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তিনি তার এই শিল্পকর্ম সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। 

তিনি বলেন:

"ধৈর্য না থাকলে কোনো কিছুই সম্ভব না। হুট করেই কিছু দাঁড়িয়ে যায় না। নিজের মেধাকে কাজে লাগালে সবই সম্ভব।"