গাইবান্ধার প্রথম চশমার দোকানের গল্প

ব্যাবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গাইবান্ধা শহরে এক সময় চশমার ব্যবসার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারত না। সেই সময়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে শুরু হওয়া একটি চশমার দোকান আজ শহরের মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে উঠে এসেছে ‘দৃষ্টি অপটিক্যাল’ নামক এই প্রতিষ্ঠানটির ৪০ বছরের দীর্ঘ পথচলার কাহিনী।

অভাবনীয় শুরুর কথা ভিডিওতে থাকা স্বত্বাধিকারী জানান, আজ থেকে ৪০ বছর আগে গাইবান্ধা শহরের অবস্থা ছিল একেবারেই ভিন্ন। তখন কাচারি বাজারের বটতলায় পুরনো ডিসি অফিসের সামনে সামান্য কিছু দোকান ছিল। আধুনিক চশমার দোকান বলতে যা বোঝায়, তা গাইবান্ধায় ছিল না। এমনকি মানুষ জানতও না যে শহরে চশমা পাওয়া যায়। সে সময় চোখের ডাক্তারও ছিলেন মাত্র একজন—গোলজার রহমান সাহেব।

ধৈর্য ও সংগ্রামের দিনগুলি ব্যবসার শুরুর দিকে অনেক দিন এমন গেছে যে সারা দিনে একটি চশমাও বিক্রি হয়নি। অনেকেই তখন বিদ্রূপ করে বলতেন, “এই ব্যবসা করে কী হবে? এখানে তো কোনো বিক্রিই নেই।” কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় (বাবা ও দাদাও ব্যবসায়ী ছিলেন) তিনি এই ব্যবসায় টিকে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তার বিশ্বাস ছিল, ধৈর্য ধরলে সফলতা আসবেই।

সুনাম ও আস্থার ভিত্তি সময়ের সাথে সাথে দৃষ্টি অপটিক্যালের সুনাম বাড়তে থাকে। সঠিক পণ্য, সাশ্রয়ী মূল্য এবং কাস্টমারদের সাথে ভালো ব্যবহারের কারণেই আজ তারা এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। বর্তমানে তাদের দোকানে মেটাল, প্লাস্টিক, সিলুয়েটসহ বিভিন্ন ধরনের ফ্রেম এবং ব্লু-কাট, ফটোসান ও এমসি গ্লাসের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। ঢাকা থেকে এসব আধুনিক ফ্রেম সংগ্রহ করা হয়।

কাস্টমারের ভালোবাসা ও দূর-দূরান্তের খ্যাতি দোকানের মালিক গর্বের সাথে জানান, তার অনেক কাস্টমার ১০ থেকে ২০ বছর ধরে নিয়মিত এখান থেকেই চশমা নিচ্ছেন। এমনকি গাজীপুর থেকে এক যুবক শুধুমাত্র তার কাছ থেকে চশমা নিতে গাইবান্ধায় এসেছেন, এমন উদাহরণও রয়েছে। বর্তমানে দোকানে আগত প্রতি পাঁচজন কাস্টমারের মধ্যে অন্তত দুজনই পুরনো কাস্টমার, যারা অন্যদেরও এখানে আসার পরামর্শ দেন।

ঠিকানা ও সেবার মান গাইবান্ধা শহরের স্টেশন রোডে পৌর পার্ক থেকে একটু পশ্চিমে গেলেই ‘দৃষ্টি অপটিক্যাল’-এর অবস্থান। প্রতিদিন সকাল ১০টার আগেই দোকান খোলার চেষ্টা করেন তারা। কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন দেখে নিখুঁত পাওয়ার সেটিং এবং ফিটিংস নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

শূন্য থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবসা আজ গাইবান্ধার মানুষের চোখের যত্নে এক অপরিহার্য নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।