কেমিক্যাল ছাড়াই ২৪ ঘণ্টায় কলা পাকানোর জাদুকরী কৌশল
ব্যাবসা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাজারে ফরমালিন বা কেমিক্যাল দিয়ে ফল পাকানোর আতঙ্কের মাঝে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও দেশীয় পদ্ধতিতে ‘হিট’ দিয়ে কলা পাকিয়ে সফল হয়েছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এক উদ্যোক্তা। ধানের তুষ বা গুঁড়োর আগুন ব্যবহার করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাঁচা কলাকে খাওয়ার উপযোগী ও মচমচে করার এই কৌশল স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই জাদুকরী পদ্ধতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
পদ্ধতি ও কৌশল উদ্যোক্তা জানান, কলা পাকানোর জন্য তিনি প্রথমে ইট, সিমেন্ট ও মাটি দিয়ে একটি ছোট বায়ুরোধী ঘর তৈরি করেছেন, যার খরচ পড়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। বাগান থেকে কাঁচা কলা কেটে আনার পর তা বাছাই করে এই ঘরে রাখা হয়। এরপর একটি চারিতে ধানের গুঁড়ো দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। আগুনের ধোঁয়া শেষ হয়ে গেলে যখন কেবল তাপ বা হিট অবশিষ্ট থাকে, তখন সেই চারিটি কলার ঘরের ভেতর দিয়ে দরজা ও পর্দা শক্ত করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘরের ভেতর যাতে বাইরের অক্সিজেন ঢুকতে না পারে এবং ভেতরের তাপ বের হতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়।
২৪ ঘণ্টার ম্যাজিক এই তাপে ২৪ ঘণ্টা থাকার পর কাঁচা কলাগুলো নরম হয়ে আসে। ঘর থেকে বের করার সময় কলার গায়ের রং সবুজ থাকলেও বাইরে রাখার কিছুক্ষণ পর তা ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং বিক্রির উপযোগী হয়। উদ্যোক্তার দাবি, এই পদ্ধতিতে পাকানো কলা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক নয়, কারণ এতে কোনো কৃত্রিম কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না।
ভুল থেকে শিক্ষা শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথম যখন এই হিটের ঘর তৈরি করেন, তখন কাঁচা ঘরে ধানের গুঁড়োর আগুন দেওয়ায় ধোঁয়ায় সব কলা কালো হয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকার কলা লোকসান হয়েছিল তার। পরবর্তীতে ঘরটি পাকা করে এবং সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে তিনি সফল হন।
ব্যবসায়িক অবস্থা ও আয় পূর্বে ভ্যান চালক থাকলেও এখন তিনি একজন সফল কলা ব্যবসায়ী। প্রতিদিন ২০ থেকে ৪০ কাঁদি কলা বিক্রি করেন তিনি। বাগান থেকে পাইকারি দরে কাঁচা কলা কিনে এনে তিনি এই হিট পদ্ধতিতে পাকান। বিশেষ করে রমজান মাসে এই কলার চাহিদা এবং দাম অনেক বেড়ে যায়। বর্তমানে তার এই ব্যবসায় লক্ষাধিক টাকা পুঁজি খাটছে এবং তিনি আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন বলে জানান।
প্রাপ্তিস্থান গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকায় অবস্থিত এই কলার আড়তগুলো প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এই সময়ের মধ্যে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা সরাসরি বাগান থেকে আসা এই প্রাকৃতিক উপায়ে পাকানো কলা সংগ্রহ করতে পারেন।
প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ফল পাকানোর এই দেশীয় প্রযুক্তি বিষমুক্ত ফল সরবরাহে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



