ভাঙ্গারি থেকে গাড়ির মালিক
ভাঙ্গারি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
শূন্য হাতে শুরু করে অভাবনীয় সাফল্যে পৌঁছানোর এক অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী উঠে এসেছে ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে। একসময় ঠিকাদারি ব্যবসায় বড় লোকসানের শিকার হয়ে নিঃস্ব হওয়া এক ব্যক্তি কীভাবে মাত্র ৫ হাজার টাকা নিয়ে ভাঙ্গারি ব্যবসা শুরু করে আজ গাড়ির মালিক হয়েছেন, সেই গল্প এখন অনেকের জন্য উদাহরণ।
সংগ্রামের শুরু ও ৫ হাজার টাকার পুঁজি ভিডিওতে থাকা ব্যবসায়ী জানান, ৯০-এর দশকে তিনি সারের ব্যবসার পাশাপাশি পড়াশোনা করতেন এবং সাহিত্য অঙ্গনেও যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ঠিকাদারি ব্যবসায় নামলেও সেখানে তিনি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে চাকরির সন্ধানে ঢাকা গেলেও সেখানে স্থায়ী হতে পারেননি। চরম আর্থিক সংকটের সময় তার মা তাকে ৫ হাজার টাকা লোন করে দেন। সেই ৫ হাজার টাকা পুঁজি করেই তিনি ভাঙ্গারি বা ফেলে দেওয়া জিনিসের ব্যবসা শুরু করেন।
ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা ও সাফল্য তিনি প্রথম শুরু করেন ছেঁড়া জুতার তলি সংগ্রহের কাজ। সেই সময় তিনি ২-৩ টাকা কেজি দরে ছেঁড়া জুতো কিনতেন এবং তার তলি ও ফিতা আলাদা করে পরিষ্কার করতেন। স্থানীয়ভাবে যা ছিল অতি নগণ্য মূল্যের, তা ঢাকায় নিয়ে গিয়ে তিনি ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতেন। এছাড়া কাঁচের বোতল, তামা, পিতল, দস্তা ও লোহার ব্যবসা শুরু করেন। তিনি জানান, ১০-১৫ হাজার টাকার মালামাল ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ৩৫-৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হতো।
পারিবারিক সহযোগিতা ও সামাজিক বাধা ব্যবসায় সাফল্যের পেছনে তার স্ত্রীর বড় অবদান ছিল। অর্থের পাশাপাশি তার স্ত্রী শ্রম দিয়েও তাকে সহযোগিতা করতেন। যখন তিনি ভাঙ্গারি ব্যবসার টাকায় প্রথম গাড়ি কেনেন, তখন অনেকেই বিদ্রূপ করে বলতেন, এটি ‘ভাঙ্গারির গাড়ি’। তবে তিনি দমে যাননি। তাদের অবজ্ঞাকে সম্মান দিয়েই তিনি নিজের কাজ চালিয়ে গেছেন। বর্তমানে তার তিনটি গাড়ি ছিল, যার মধ্যে এখন একটি রেন্টে কার হিসেবে চলছে।
বিশাল কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা এই ব্যবসায়ী জানান, ভাঙ্গারি ব্যবসা শুধু তার জীবন বদলায়নি, বরং এটি একটি বড় শিল্পের মতো। তার এলাকায় প্রায় ২ হাজার ছোট-বড় দোকান রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা হয়েছে। তিনি মনে করেন, কোনো কাজই ছোট নয়। চুরি বা অন্যায় না করে খেটে খাওয়া সম্মানের বিষয়।
নতুনদের জন্য পরামর্শ তিনি বলেন, “যিনি হাতের কাজ জানেন এবং যিনি ভাঙ্গারি ব্যবসা বোঝেন, তারা জীবনে কখনো সমস্যায় পড়েন না।” খুব অল্প পুঁজি, এমনকি মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়েও এই ব্যবসা শুরু করে দিনে ভালো মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। ফেলে দেওয়া জিনিস সংগ্রহ করে কীভাবে আত্মনির্ভরশীল হওয়া যায়, তিনি তার বাস্তব উদাহরণ।
বর্তমানে তিনি ভাঙ্গারি ব্যবসার পাশাপাশি জায়গা-জমি কেনাবেচা এবং রেন্টে কারের ব্যবসাও সফলভাবে পরিচালনা করছেন। তার এই জয়যাত্রা প্রমাণ করে যে, সততা ও পরিশ্রম থাকলে ধুলো থেকেও সোনা ফলানো সম্ভব।



