ভাড়াটিয়ারা টাকা না দিয়েই চলে যায়

ব্যাবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক সবজি বিক্রেতার কাহিনী উঠে এসেছে 'Songjog' ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে। দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে ফুটপাতে সবজি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। তবে সততার সাথে ব্যবসা করলেও মাঝেমধ্যে তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয় তাকে। অনেক সময় বাসাভাড়া থাকা ভাড়াটিয়ারা তার কাছ থেকে সবজি নিয়ে টাকা না দিয়েই এলাকা ছেড়ে চলে যান।

সংগ্রামের শুরু ও বর্তমান অবস্থা ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি জানান, তিনি নয় বছর ঢাকা থাকার পর নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। কৃষি কাজে অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি ফুটপাতে সবজি ব্যবসা শুরু করেন। এক সময় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করলেও এখন তিনি গাইবান্ধার মাস্টারপাড়া, মুন্সিপাড়া ও ডিবি রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচিত মুখ। প্রতিদিন ভোর ৬টায় ঘুম থেকে উঠে বাজারে যান এবং ৭টার মধ্যে পাইকারি বাজার (পুরাতন বাজার) থেকে মাল কিনে আনেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা-৩টা পর্যন্ত চলে তার বেচাকেনা।

অভাব ও আর্থিক টানাপোড়েন পাঁচ সদস্যের পরিবার চালাতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হয়। প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করে তার লাভ থাকে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। তিনি জানান, বাজারে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন পুঁজি বেশি লাগে। অনেক সময় পরিচিতদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তাকে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। এমনকি অভাবের দিনে খড়ি (জ্বালানি কাঠ) বিক্রি করে এক কেজি আটা কিনে বাড়ি ফেরার মতো দিনও তাকে পার করতে হয়েছে।

ভাড়াটিয়াদের প্রতারণা ও মানবিকতা সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এলাকার বিভিন্ন বাসায় ভাড়া থাকা অনেকে তার কাছ থেকে বাকিতে সবজি নিয়ে টাকা না দিয়েই চলে যান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "টাকাটা দিল না, মানুষ কেমন আচরণ করল!" তবে এই ক্ষতি মেনে নিয়ে তিনি সব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন এবং আখেরাতে এর বিচার পাবেন বলে সান্ত্বনা খোঁজেন।

অতীতের স্মৃতি ও বর্তমান প্রাপ্তি সবজি ব্যবসায় আসার আগে তিনি কামলা খাটতেন এবং বিনিময়ে চাল বা সামান্য টাকা পেতেন। সেই তুলনায় বর্তমান ব্যবসাকে তিনি সম্মানের মনে করেন। এলাকার প্রতিবেশী ও শহরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করে, এটাই তার বড় আনন্দ। তবে পুঁজি কম হওয়ায় বড় পরিসরে ব্যবসা করতে পারছেন না। যদি কিছুটা আর্থিক সহায়তা পেতেন, তবে সুস্থভাবে ব্যবসাটি আরও বড় করতে পারতেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অদম্য এই মানুষটি তার সীমাবদ্ধতার মধ্যেই পরিবার নিয়ে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।