মোবাইল ফোন বেচে শুরু ব্যবসা

ব্যাবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বেকারত্বের অভিশাপ মুছে ফেলে স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন গাইবান্ধার তরুণ জনি। দীর্ঘদিনের চাকুরিজীবন ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে তিনি ফুটপাতে বিরিয়ানি ও তেহারি বিক্রি করে সফলতার মুখ দেখছেন। মাত্র ৮০ টাকায় গরুর তেহারি বিক্রি করে তিনি এখন শহরজুড়ে পরিচিত মুখ। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে উঠে এসেছে তার এই সংগ্রামী ও প্রেরণামূলক কাহিনী।

শূন্য হাতে পথচলা শুরু জনি জানান, ২০১৮ সাল থেকে তিনি ঢাকার বিভিন্ন কোম্পানিতে মার্কেটিং এবং কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু সেই ১৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্রায় ছয় মাস বাড়িতে বেকার বসে ছিলেন। একদিন হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেন নিজের কিছু করার। পকেটে টাকা না থাকায় নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বিক্রি করে এবং প্রতিবেশী থেকে একটি ডেকচি (সাসপেন) ধার করে তিনি ব্যবসার যাত্রা শুরু করেন।

ব্যবসায়িক মেন্যু ও মূল্যতালিকা জনির তেহারি ও বিরিয়ানির প্রধান আকর্ষণ হলো সাশ্রয়ী মূল্য। তিনি হাফ প্লেট গরুর তেহারি বিক্রি করছেন মাত্র ৮০ টাকায় (বসে খেলে), আর পার্সেল নিলে দাম পড়ে ৯০ টাকা। ফুল প্লেট তেহারির দাম রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা, যা পার্সেলে ১৬০ টাকা। তার খাবারের স্বাদ ও মানের কারণে রাত ১টার দিকেও কাস্টমাররা তার কাছে ছুটে আসেন। এমনকি ঢাকা থেকেও মানুষ তাকে ফোন করে দোকানের ঠিকানা জানতে চান।

চ্যালেঞ্জ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে তাকে অনেক সামাজিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। পরিচিত অনেকে ফোন করে টিপ্পনী কাটতেন যে, শেষমেশ তাকে ফুটপাতে বসতে হলো! এমনকি তার নিজের স্কুলের এক শিক্ষক তার দোকানে এসে বসে খেতে দ্বিধা বোধ করায় জনি বেশ অবাক ও ব্যথিত হয়েছিলেন। তবে তিনি দমে যাননি। তিনি মনে করেন, হালাল উপায়ে খেটে খাওয়ার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই।

অবস্থান ও সময়সূচী বর্তমানে জনি প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১টা-২টা পর্যন্ত গাইবান্ধার পৌর পার্কের পাবলিক লাইব্রেরির বিপরীত পাশে (রেড ক্রিসেন্ট অফিসের পাশে) বসেন। অনেক সময় রাত বাড়লে বা লোকসমাগম কম থাকলে তিনি বাস টার্মিনাল বা পুরাতন বাজার এলাকায় গিয়েও খাবার বিক্রি করেন।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ জনি নতুনদের উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রতিষ্ঠিত হতে হলে নিজের বুদ্ধিতে কাজ করতে হবে। আশেপাশের মানুষের নেতিবাচক কথায় কান না দিয়ে সুবুদ্ধি নিয়ে মাঠে নেমে পড়লে সফলতা আসবেই।” নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে শুরু করা জনির এই ছোট উদ্যোগ আজ তাকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।