এটা গাইবান্ধা! উত্তরের মানুষ এতদিন এটা জানতো না!

মানুষ

গুড আফটারনুন। আমি শাহরিয়ার পলাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং), এসকেসিএন রিসোর্টে কর্মরত। এসকেসিএন রিসোর্ট গাইবান্ধায় অবস্থিত উত্তরবঙ্গের একমাত্র চার তারকা রিসোর্ট। এটিকে আমরা ফোর-স্টার রিসোর্ট বলি।

আমাদের এই রিসোর্টটি ১৯.২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এটি উত্তরবঙ্গকে বাংলাদেশের বুকে রিপ্রেজেন্ট করে। এখানে আগত অতিথিরা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব উপভোগ করেন। এই ভিডিওর মাধ্যমে ধীরে ধীরে আপনারাও এই পরিবেশ দেখতে পাবেন। এখানে সবচেয়ে উপভোগ্য বিষয় হলো—সকালে সূর্যের আলোয় পাখির কিচিরমিচির আর সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সময় পাখিদের ঘরে ফেরা।

আমাদের রিসোর্ট এলাকায় ১৫০টিরও বেশি প্রজাতির গাছগাছালি রয়েছে এবং এটি পাখিদের জন্য একটি অভয়াশ্রম। শহরের কোলাহল ছেড়ে যারা নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তারা এখানে এসে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকতে পারেন।

রিসোর্টটি গাইবান্ধা জেলার নদীবিধ এলাকায় অবস্থিত। এখানে আমরা দুটি ওয়াটার ভিলা দেখতে পাই, যেগুলো পুকুরের ওপর নির্মিত। সামনে রয়েছে বাউল কুটির, যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাউল গান পরিবেশিত হয়। এর নাম রাধাকুঞ্জ, এলাকার নাম রাধাকৃষ্ণপুর হওয়ায় এই নামকরণ। এছাড়া আরও দুটি বিল্ডিং রয়েছে, যেখানে অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা আছে।

রিসোর্ট জুড়ে ১৫০টিরও বেশি প্রজাতির গাছ রয়েছে। শহর থেকে আসা অতিথিরা তাদের বাচ্চাদের এসব গাছের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। সকালের পাখির ডাক আর সন্ধ্যার পাখিদের ফেরার দৃশ্য এখানে সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

রিসোর্টে অতিথিদের সুবিধার জন্য স্পষ্ট ডিরেকশন দেওয়া আছে। এখানে রয়েছে সুইমিং পুল, সাইকেলিং স্টেশন ও কিডস ওয়েভ পুল। বাচ্চাদের জন্য আলাদা পুল এবং বড়দের জন্য আলাদা সুইমিং পুল রয়েছে।

এখানে রয়েছে গ্রাভিটি ফিটনেস জোন। গেস্টদের জন্য সোনা ও স্টিম বাথের ব্যবস্থা আছে। স্টিম বাথ ও সোনার আলাদা গাইডলাইন দেওয়া রয়েছে। এছাড়া চেঞ্জিং ও লকার রুম রয়েছে। আমাদের জিমনেশিয়াম রুম গেস্টদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি। তবে সোনা ও স্টিম বাথ নিতে চাইলে অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য।

সুইমিং পুলের পাশে রয়েছে ট্রি ক্যাফে। এখানে ফাস্ট ফুড, বেভারেজ, আইসক্রিম, কফি, বার্গার ও পেস্ট্রি আইটেম পাওয়া যায়। গেস্টরা সুইমিং করতে করতেই এখান থেকে খাবার উপভোগ করতে পারেন।

এরপর রয়েছে বোটিং স্টেশন। এখানে প্যাডেল বোট, ওয়াটার সাইক্লিং ও কায়ক বোট রয়েছে। এখানে ভিয়েতনামের নারিকেল গাছও আছে, যেগুলোতে নারিকেল ধরে। বিকেলবেলায় বসার জন্য জায়গাটি খুবই উপযোগী। এখান থেকে লেক ফ্রন্ট ভিলা দেখা যায়, যেগুলো আমাদের সিগনেচার ভিলা।

এছাড়া রয়েছে ব্যাডমিন্টন ও বাস্কেটবল কোর্ট। শীতকালে নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলা হয়। রাস্তার দুই পাশে রয়েছে ফুলের গাছ, যেমন ক্যাশিয়া জাভানিকা। লেকের পাড়ে বসার বেঞ্চ, দোলনা এবং সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য রয়েছে।

আমাদের লেক ফ্রন্ট ফ্যামিলি ভিলাগুলোর একটি হলো ‘গোধূলি গল্প’। এই ভিলাগুলোতে বেড, ড্রয়িং স্পেস, রুম হিটার, টিভি, কফি মেকিং সুবিধা এবং ওয়াশরুম রয়েছে। বারান্দা থেকে পুরো লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

ফ্যামিলি ভিলাগুলো বিশেষভাবে বাবা-মা ও বাচ্চাসহ পরিবারের জন্য উপযোগী। এখানে টুইন বেডের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বাস্কেটবল কোর্টের ভাড়া প্রতি ঘণ্টা ৩৫০ টাকা, ছয়জনের একটি টিম খেলতে পারে।

রিসোর্টের একটি অংশকে আমরা উইন্টার গার্ডেন বলি। এটি একটি ওপেন স্পেস, যেখানে কর্পোরেট প্রোগ্রাম, আউটডোর ইভেন্ট ও স্টেজ প্রোগ্রাম করা যায়। এখানে রয়েছে শালগাছ, ঝুলন্ত ব্রিজ এবং গ্রাম বাংলার জীবনধারার প্রতিচ্ছবি ‘গ্রাম বাংলার কেচ্ছা’।

এখানে ফটোজোন রয়েছে, যেখানে অতিথিরা ছবি তুলতে খুব পছন্দ করেন। এরপর রয়েছে লেক ফ্রন্ট সিঙ্গেল ভিলা ‘আকাশ নীল’, যার প্রতি রাতের ভাড়া প্রায় ২০,২৪০ টাকা। এতে কুইন সাইজ বেড, ইনডোর দোলনা এবং লেক ভিউ রয়েছে।

রিসোর্টে রয়েছে ফিশিং জোন, যেখানে অতিথিরা মাছ ধরতে পারেন। প্রয়োজনীয় রড ও টোপ আমরা সরবরাহ করি। এক পাশে শালবন, অন্য পাশে লেক—এই পরিবেশে ফিশিং করার আনন্দ আলাদা।

এছাড়া রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা ‘ডিয়ারস’, যেখানে হরিণ দেখা যায়। অতিথিরা এখানে ছবি তুলতে ভালোবাসেন।

আমাদের সিগনেচার ভিলার নাম ‘জলবাড়ি’, যার প্রতি রাতের ভাড়া ৪৫ হাজার টাকা। এতে রয়েছে আলাদা ড্রয়িং স্পেস, মাস্টার বেডরুম, একাধিক ওয়াশরুম, বড় টিভি এবং লেকের অসাধারণ ভিউ। জলবাড়ি অতিথিদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে।

শীতকালে এখানে বোনফায়ার ও লাইভ বারবিকিউ আয়োজন করা হয়। বাউল কুটিরে নিয়মিত বাউল সংগীত পরিবেশন হয়।

রিসোর্টে রয়েছে মাল্টিকুইজন রেস্টুরেন্ট ‘জলধারা’। এর উপরে রয়েছে ব্যাংকুয়েট হল। রুম গেস্টদের জন্য এখানে কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট দেওয়া হয়। পাশাপাশি কিডস জোন রয়েছে, যেখানে বাচ্চারা খেলাধুলা করে।

সব মিলিয়ে, এটি উত্তরবঙ্গের একমাত্র চার তারকা রিসোর্ট, ১৯.২ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এসকেসিএন রিসোর্ট। এটি গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রাধাকৃষ্ণপুরে অবস্থিত। আমরা আশা করি, যারা গাইবান্ধা বা উত্তরবঙ্গে ভ্রমণের পরিকল্পনা করবেন, তারা এসকেসিএন রিসোর্টকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেবেন।