ডিশওয়াশার থেকে রেস্টুরেন্ট মালিক
রেস্টুরেন্ট
গাইবান্ধার তেঁতুলতলায় অবস্থিত ‘ক্ষুধা লাগছে’ ও ‘শেফ কিচেন’-এর উদ্যোক্তা বিপুল-এর সফলতার গল্প নিয়ে একটি ভিডিও’র স্ক্রিপ্ট নিচে দেওয়া হলো:
ডিশওয়াশার থেকে রেস্টুরেন্ট মালিক: শেফ বিপুলের অবিশ্বাস্য গল্প
বিপুল: (খাবার সাজাতে সাজাতে) যখন আমি কাজ শুরু করি, তখন আমার বেতন ছিল মাত্র ৬০০০ টাকা। দীর্ঘ চার বছর টাঙ্গাইলে কাজ করেছি, ভারতেও ছিলাম চার বছর। আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ডিশওয়াশার হিসেবে। সেখান থেকেই রান্নার প্রতি এক ধরনের নেশা তৈরি হয়। আমি চাই মানুষ আমার হাতের খাবার খেয়ে তৃপ্ত হোক।
বিপুল: শুরুতে আমি ৮-৯ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসাটা শুরু করি। ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ অফার দিয়েছিলাম মিট বক্সে। এরপর একজন ফেসবুকে একটি রিভিউ দেয়, আর অমনি অর্ডারের ঝড় শুরু হয়। এখন আমার মাসিক স্যালারি বা আয় গড়ে ৩০,০০০ টাকার মতো। দৈনিক ৬-৭ হাজার টাকার খাবার বিক্রি হয়।
বিপুল: রান্না আমার কাছে একটা শিল্প। আমি সবসময় নিজস্ব রেসিপি আর মসলা ব্যবহার করি। কাজ করতে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। একবার তন্দুরি চায়ের কাপ গরম করতে গিয়ে হাত পুড়ে গভীর ক্ষত হয়ে গিয়েছিল। এমনকি গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গিয়ে একবার মাথার চুল আর মুখ পুড়ে গিয়েছিল। তবুও মানুষের ভালোবাসা আমাকে থামিয়ে দেয়নি।
বিপুল: গাইবান্ধায় রসমালাইয়ের দাম যেখানে ৪০০ টাকা, সেখানে আমি দিচ্ছি মাত্র ৩০০ টাকায়। আমার এখানে পাবেন ভিআইপি বিরিয়ানি, যা রেস্টুরেন্টে ৩০০ টাকা নেয়, আমি দিচ্ছি মাত্র ৬০ টাকায়। এছাড়া বার্গার, পিৎজা, চিকেন ফ্রাইসহ নানা রকম ফাস্টফুড আছে। খুব শীঘ্রই আমি সিফুড (Sea Food) যোগ করব, যা গাইবান্ধায় একদমই নতুন।
বিপুল: আলহামদুলিল্লাহ, আমার কোনো কাস্টমার আজ পর্যন্ত বলেনি যে খাবার খারাপ হয়েছে। রিপিট কাস্টমার পাওয়া খুব কঠিন, কিন্তু আমার অধিকাংশ কাস্টমারই বারবার ফিরে আসেন। যারা আমার কাছে আসতে চান, তারা গাইবান্ধা তেঁতুলতলায় আসতে পারেন অথবা আমার ফেসবুক পেজ ‘ক্ষুধা লাগছে’ বা ‘গাইবান্ধা শেফ কিচেন’-এ অর্ডার করতে পারেন।
বিপুল: আমার স্বপ্ন হলো এই ব্যবসাটাকে আরও বড় করা। ভবিষ্যতে গাইবান্ধা শহরে একটি বড় রেস্টুরেন্ট দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। আমি চাই গাইবান্ধার মানুষকে সুলভ মূল্যে সেরা স্বাদের খাবার উপহার দিতে।
বিপুল: খাবারের গুণগত মানে আমি কখনো আপস করি না, এটাই আমার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
ইউটিউব ভিডিও লিঙ্ক:



