গাইবান্ধায় সাঁওতাল-বাঙালি শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতি সমাবেশ

গাইবান্ধার নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অবলম্বনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে চার শতাধিক সাঁওতাল, ওড়াঁওসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী এবং বাঙালি ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয়।

গাইবান্ধায় সাঁওতাল-বাঙালি শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতি সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল-বাঙালি ছাত্র-ছাত্রীদের এক সম্প্রীতি সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন সাঁওতালসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংস্কৃতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এগুলো রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী এলাকার মাহমুদবাগ ইসলামিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সাঁওতালসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী বাঙালি ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে এই সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা, খেলাধুলা সাংস্কৃতিক আয়োজন। গাইবান্ধা নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অবলম্বনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে চার শতাধিক সাঁওতাল, ওড়াঁওসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী এবং বাঙালি ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয়।

সমাবেশের শুরুতেই একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে ঢাকা-দিনাজপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত শিক্ষার্থীরা র‌্যালিতে অংশ নেন। 

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জনউদ্যোগের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মাহমুদবাগ ইসলামিয়া দ্বিমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: নজরুল ইসলাম, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের সদর উপজেলা সভাপতি গোলাম রব্বানী মুসা, সাংস্কৃতিক সংগঠক মানিক বাহার, সাংবাদিক কায়সার রহমান রোমেল, মনির হোসেন সুইট, নারী নেত্রী নাজমা বেগম, অবলম্বনের প্রজেক্ট কো-অডিনেটর মাহবুব আলম মুকুল, প্রজেক্ট অফিসার প্রতিমা চক্রবর্তী, আদিবাসী নেত্রী সাবিনা টুডু, রেশমি মার্ডি, সুস্মিতা মুর্মু, আবিনা টপ্পো, শিল্পী ওরাও, মিলন তিগ্যা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাঁওতালসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে, বিলুপ্তির পথে তাদের সংস্কৃতিও। তারা উল্লেখ করেন, এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ ভূমিহীন অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক অবস্থায় বসবাস করছে, যা তাদের সাংস্কৃতিক অস্তিত্বকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।  এসব রক্ষা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা সংস্কৃতি সংরক্ষণে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনেরও দাবি জানান তারা।