শত বছরের ইতিহাস ও দীনি শিক্ষার আলোকবর্তিকা
ইতিহাস
নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরবঙ্গের লোকজ ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক সুফী সাধকদের স্মৃতির সাথে জড়িয়ে আছে কত না অজানা গল্প। তেমনি এক বিস্ময়কর ও ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ জনপদের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি প্রাচীন দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হযরত শাহাঙ্গাল রহমতুল্লাহ আলাইহির অলৌকিক আগমন এবং স্থানীয় রাজার আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক পটভূমির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই জনপদ আজ এলাকার মানুষের জন্য শিক্ষার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে।
জনশ্রুতি ও ইতিহাস অনুযায়ী, বহু আগে হযরত শাহাঙ্গাল রহমতুল্লাহ আলাইহি লাউয়ের বশে ভেসে এই অঞ্চলে আগমন করেন এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় লিপ্ত হন। তৎকালীন সময়ে স্থানীয় রাজা তাকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করলেও অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হয়ে অনুতপ্ত হন এবং পীর সাহেবের সম্মানে পুরো এলাকাটি ‘লাখারাজ’ ঘোষণা করে দেন। পরবর্তীতে পীর সাহেবের ইন্তেকালের পর স্থানীয় জিম্মাদারদের মাধ্যমে এই পবিত্র ভূমি মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে ওয়াকফ করা হয়। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক স্থানে গড়ে ওঠা মাদ্রাসায় প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী আবাসিক ও অনাবাসিক পর্যায়ে কোরআনে হাফেজ ও কওমি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন।
চর অঞ্চলের দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য এটি যেন এক আস্থার আশ্রয়স্থল। সরকারি বড় কোনো অনুদান না থাকলেও স্থানীয় সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, অনুদান ও যাকাত ফান্ডের ওপর নির্ভর করে শত প্রতিকূলতার মাঝেও এগিয়ে চলছে এই প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ছয়তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এখানে ‘দাওরায়ে হাদিস’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও শিক্ষার এক অপূর্ব মেলবন্ধন হয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি উত্তর জনপদের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।