বাঙ্গি চাষিদের হাসি-কান্নার গল্প চাষিরাই চুরি করে বাঙ্গি বিক্রি করে

কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চৈত্র মাসের কাঠফাটা রোদে বাঙ্গি চাষিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। তবে এবারের বাঙ্গি চাষে ফলন বিপর্যয় ও বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন গাইবান্ধার চাষিরা। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বাঙ্গি চাষিদের জীবনসংগ্রাম ও এক অদ্ভুত চুরির ঘটনা উঠে এসেছে।

বাঙ্গি চাষে বিচিত্র অভিজ্ঞতা ভিডিওতে একজন চাষি আক্ষেপ করে বলেন, সাধারণ মানুষ খুব একটা বাঙ্গি চুরি করে না। বরং চাষিরাই অনেক সময় অন্য চাষির জমি থেকে বাঙ্গি চুরি করে বিক্রি করে। তিনি আরও জানান, বাঙ্গি পেকে ফেটে যাওয়ার ভয়ে দিনে অন্তত তিনবার (সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যা) জমি থেকে বাঙ্গি সংগ্রহ করতে হয়।

ফলন বিপর্যয় ও আবহাওয়া অতিরিক্ত খরা ও কুয়াশার কারণে এবার বাঙ্গির ফলন আশানুরূপ হয়নি। চাষিদের মতে, কুয়াশার কারণে গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে এবং ফলন কমে যাচ্ছে। গত বছর যেখানে ৬০ হাজার টাকার বাঙ্গি বিক্রি করেছিলেন, এবার সেখানে ৩০ হাজার টাকা হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এক চাষি। অতিরিক্ত বৃষ্টির অভাবে গাছ লাল হয়ে মারা যাচ্ছে।

বাজারদর ও মধ্যস্বত্বভোগী মাঠে বড় সাইজের বাঙ্গি পাইকারি দরে ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও, রংপুরসহ বড় শহরগুলোতে তা কেজি দরে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার ফেটে যাওয়া বাঙ্গিগুলো গাইবান্ধা শহরে ১৫ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়। চাষিদের মতে, আগে বাঙ্গির দাম ৪-৫ টাকা থাকলেও এখন তা ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

দেশি বাঙ্গি ও বিপণন এলাকায় মূলত ‘দেশি ফ্রেশ বাঙ্গি’ চাষ করা হয়। এছাড়া গোল ও মোটা জাতের ‘পারুয়া বাঙ্গি’ এবং ‘ডোরাকাটা বাঙ্গি’রও চাষ হয়। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা পিকআপ ভ্যান নিয়ে এসে জমি থেকেই বাঙ্গি কিনে নিয়ে যান।

চাষিদের একমাত্র ভরসা ধান কাটার আগে এই বাঙ্গি বিক্রি করে এককালীন কিছু ‘কাটকা’ টাকা পাওয়া যায়, যা দিয়ে ধান কাটার শ্রমিক বা অন্যান্য খরচ মেটানো সম্ভব হয়। এক বিঘা জমিতে ২০ হাজার টাকা খরচ করে বড় ধরনের কোনো দুর্বিপাক না হলে ভালো লাভের আশা করেন চাষিরা।

প্রকৃতির বৈরিতার সাথে লড়াই করে বাঙ্গি চাষিরা স্বপ্ন বুনলেও, এবারের বাজার পরিস্থিতি তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।